শাসকদলের ‘প্রভাব’ শেষ! খুনের মামলায় জেলে তৃণমূল নেতা!

সাম্প্রতিক সময়ে রাজনীতির সঙ্গে অপরাধের যোগ ক্রমশ গভীর হচ্ছে। একসময়ে সমাজসেবার অন্যতম মাধ্যম ছিল রাজনীতি, কিন্তু এখন তা ধীরে ধীরে ক্ষমতার হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। অপরাধের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বহু রাজনৈতিক নেতা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ান, কখনও আইনের হাত তাদের স্পর্শ করতে পারে না। ভোটব্যাঙ্ক, প্রভাব-প্রতিপত্তি ও রাজনৈতিক মদতের কারণে অনেক সময় অভিযুক্তদের বিচারের মুখোমুখি হতে হয় না। তবে আদালতের হস্তক্ষেপ কখনও কখনও সেই চিত্র বদলে দিতে পারে।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কোনও রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় থাকলেই দোষীরা বেঁচে যায়। সাধারণ মানুষের কাছে অভিযোগ জানানোর রাস্তা থাকলেও, শাসকদলের প্রভাব থাকলে পুলিশও অনেক সময় নিষ্ক্রিয় থাকে। রাজনৈতিক ক্ষমতা থাকলে অপরাধীদের গ্রেফতারি আটকানো যায়, মামলা ধামাচাপা পড়ে যায়, বা বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়। কিন্তু আদালতের হস্তক্ষেপ হলে কী হয়? দীর্ঘদিন পরেও কি অপরাধের বিচার পাওয়া সম্ভব? পানিহাটির ঘটনায় সেই প্রশ্নই সামনে আসছে।

এক যুবককে পিটিয়ে মারার অভিযোগ উঠেছিল পানিহাটি পুরসভার বর্তমান কাউন্সিলর তারক গুহর বিরুদ্ধে। ২০১৪ সালের ২৬ নভেম্বর, স্থানীয় এক যুবককে মারধরের অভিযোগ ওঠে তারক ও তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে। তখনও তিনি রাজনীতিতে এতটা সক্রিয় ছিলেন না, কিন্তু অভিযোগ ছিল, শাসকদলের মদতে তাঁর অপরাধ ধামাচাপা পড়েছিল। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হলেও, এতদিন তারক গুহকে গ্রেফতার করা হয়নি। অবশেষে শুক্রবার বারাকপুর আদালত কড়া নির্দেশ দেয়, তারক গুহকে গ্রেফতার করতে হবে। এরপরই তাঁকে গ্রেফতার করতে বাধ্য হয় পুলিশ।

তৃণমূলের কাউন্সিলর হওয়ার পর তারক গুহর প্রভাব আরও বেড়েছিল। আদালতে হাজিরার নির্দেশ থাকলেও, তিনি বা তাঁর অনুগামীরা তা মানতেন না। রাজনৈতিক শক্তির জোরে বারবার পুলিশি ব্যবস্থা এড়িয়ে গেছেন তিনি। তবে এবার আর রক্ষা হয়নি। শুক্রবার আদালতে হাজিরা দিতে গেলে বিচারক সরাসরি তাঁর গ্রেফতারির নির্দেশ দেন। পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে গ্রেফতার করে এবং জেল হেফাজতে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশের ঐতিহ্যে ধাক্কা! ভাষা দিবসে রাষ্ট্রপতিকে একা রেখে ইউনুসের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত!

এই ঘটনায় বিজেপি তীব্র আক্রমণ করেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল অপরাধীদের আশ্রয় দেয় এবং তাদের রাজনীতির মোড়কে নিরাপত্তা দেয়। তারা বলছে, “খুনের অভিযোগ থাকলেও তৃণমূল করলে পুলিশ হাত দেবে না, বরং তারা কাউন্সিলর, বিধায়ক হয়ে যাবে।” তবে তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়েছে, এটি আদালতের সিদ্ধান্ত এবং দলের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই। পানিহাটি-সোদপুরের সাধারণ মানুষ এই ঘটনায় আতঙ্কিত, কারণ এতদিন ধরে একজন খুনের মামলার আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। এখন দেখার, তারক গুহর গ্রেফতার কি শুধু আইনি প্রক্রিয়ার অংশ, নাকি এর মাধ্যমে অপরাধ ও রাজনীতির আঁতাত ভাঙতে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হবে!

আরও অন্যান্য খবর