সকালবেলা অফিসযাত্রীদের ব্যস্ততা, নিত্যযাত্রীদের নিয়মিত সফর—সব কিছুতেই আজ ছন্দপতন। কেউ কাজে বেরিয়ে পড়েছেন, কেউ ট্রেন ধরার জন্য স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছেন, আর কেউ বা অপেক্ষা করছেন ট্রেনের ঘোষণা শোনার জন্য। কিন্তু হঠাৎই বন্ধ হয়ে গেল ট্রেন চলাচল! ব্যান্ডেল জংশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে হঠাৎ এই বিপত্তি চরম সমস্যায় ফেলেছে যাত্রীদের। অফিসের সময় পেরিয়ে যাচ্ছে, গন্তব্যে পৌঁছানোর তাড়া থাকলেও কিছুই করার নেই। রেলপথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় নিত্যযাত্রীদের একাংশ হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন, আবার কেউ কেউ বিকল্প পরিবহণ খোঁজার চেষ্টা করছেন।
যাত্রীরা যখন ব্যান্ডেল, হুগলি, কুন্তিঘাট, গুপ্তিপাড়া স্টেশনে আটকে রয়েছেন, তখনই শুরু হয় ধৈর্যের পরীক্ষা। অনেকেই জানেন না ট্রেন কবে ছাড়বে, কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে। যাত্রীদের মধ্যে ধীরে ধীরে ক্ষোভ জমতে থাকে। এক নিত্যযাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নৈহাটি থেকে ব্যান্ডেল যাওয়ার জন্য ট্রেনে উঠেছিলাম, এখন মাঝপথে আটকে গেছি। গন্তব্যে পৌঁছাতে হবে, কিন্তু কোনও বিকল্প নেই!” কেউ কেউ ফোনে পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিকল্প ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছেন, আবার কেউ অসহায়ভাবে অপেক্ষা করছেন ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার জন্য।
এই বিপত্তির মূল কারণ ওভারহেড তার ছিঁড়ে যাওয়া। রেল সূত্রের খবর, ব্যান্ডেল ও হুগলি স্টেশন এবং ব্যান্ডেল ও আদি সপ্তগ্রাম স্টেশনের মাঝে আপ ও ডাউন—দুই লাইনেই ওভারহেড তার ছিঁড়ে যায়। ফলে দুটি লাইনে বন্ধ হয়ে যায় ট্রেন চলাচল। এর ফলে ডাউন কাটোয়া লোকাল (৩৭৯১৬) কুন্তিঘাট স্টেশনে দাঁড়িয়ে পড়ে, আর পরের ডাউন ট্রেন (৩৭৯১৮) আটকে যায় গুপ্তিপাড়া স্টেশনে। প্রায় আধ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ট্রেনগুলি থমকে রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ফের ফিরবে শীতল হাওয়া নাকি বাড়বে গরম? বাংলার আবহাওয়া নিয়ে নতুন পূর্বাভাস!
রেলের আধিকারিকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন এবং ওভারহেড তার ঠিক করার কাজ চলছে। কিন্তু রেল সূত্রে খবর, পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কমপক্ষে দুই ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। ব্যান্ডেল গুরুত্বপূর্ণ জংশন হওয়ায় এখানে প্রচুর যাত্রী ওঠানামা করেন। ফলে এই বিপত্তি আরও বেশি সমস্যার সৃষ্টি করেছে।
বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে অন্য পরিবহণ খুঁজছেন। কেউ বাসে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, কেউ ভ্যান বা অটোতে করে কাছের স্টেশনে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। এক অফিসযাত্রী বলেন, “আমি বর্ধমান যাব, কিন্তু এই পরিস্থিতিতে বাস ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। রেলের ওপর নির্ভর করলে আজ অফিস মিস হয়ে যাবে।” অন্যদিকে, যাত্রীরা অভিযোগ করছেন, আগেভাগে কোনও ঘোষণা না থাকায় তাঁরা সমস্যায় পড়েছেন। রেল কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমস্যা মেটানোর আশ্বাস দিলেও, ক্ষুব্ধ যাত্রীরা বলছেন, বারবার একই ঘটনা ঘটছে, অথচ স্থায়ী সমাধান নেই।





