পশ্চিমবঙ্গের (west bengal) রাজনীতিতে দলবদল নতুন কিছু নয়। বিভিন্ন সময়ে একাধিক নেতা নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে বা রাজনৈতিক অবস্থান মজবুত করতে দলে যোগদান কিংবা দলত্যাগ করেছেন। বিশেষ করে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ও পরে এই প্রবণতা তীব্র আকার নেয়। শুভেন্দু অধিকারী, মুকুল রায়, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়দের মতো তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতারা দল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েছিলেন, আবার কেউ কেউ ফিরে এসেছেন তৃণমূলে। তবে ফিরে এলেও তাঁদের প্রতি সন্দেহের দৃষ্টি থেকে যায়। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিশ্বাসযোগ্যতার তালিকায় তারা আদৌ রয়েছেন কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন।
এই আবহেই তৃণমূল কংগ্রেসের মহাসমাবেশ থেকে ফের একবার দলের ‘বিশ্বাসঘাতকদের’ বিরুদ্ধে সরব হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, দলের মধ্যে যারা একসময় তৃণমূলের ক্ষতি করেছেন, তাদের তিনি চিহ্নিত করেছেন। নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার আয়োজিত এই সভায় অভিষেক বলেন, ‘‘যারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, আমি তাদের চিনি। শুভেন্দু-মুকুলরা সেই তালিকায় রয়েছে।’’ শুধু তাই নয়, তিনি আরও জানান, দলে থেকে কেউ যদি সংবাদমাধ্যমের আলোয় থাকার জন্য নিজেদের প্রচার করেন এবং তৃণমূলের ক্ষতি করেন, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যখন এই বিস্ফোরক মন্তব্য করছেন, তখন মঞ্চের কাছেই উপস্থিত ছিলেন মুকুল রায়ের পুত্র শুভ্রাংশু রায়। বাবার বিরুদ্ধে এই আক্রমণ শুনেও তিনি সেখানে ছিলেন, যা রাজনৈতিক মহলে বেশ চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে মুকুল রায় তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। তবে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ভরাডুবির পর তিনি তৃণমূলে ফিরে আসেন। সেই সময় শুভ্রাংশুকেও তৃণমূল ভবনে ঘন ঘন যাতায়াত করতে দেখা গিয়েছিল। যদিও বর্তমানে মুকুল রায় শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং রাজনীতি থেকে অনেকটাই দূরে।
আরও পড়ুনঃ সন্তান বড় হলেই ভাঙছে সংসার! দীর্ঘ দাম্পত্যের পরেও কেন বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত?
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। দলের মুখপাত্র কৌস্তভ বাগচী সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভ্রাংশুর একটি ছবি পোস্ট করে লেখেন, ‘‘বেটা হো তো অয়সা! নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে বাবাকে বিশ্বাসঘাতক বলা হলেও হাসিমুখে ছবি তুলছেন ছেলে!’’ বিজেপির দাবি, এটি তৃণমূলের ‘অপমানের রাজনীতি’র উদাহরণ, যেখানে পুরনো নেতাদের সম্মান না দিয়েই তাঁদের বারবার কটাক্ষ করা হয়। তবে তৃণমূলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিষেকের এই বক্তব্যের পর শুভ্রাংশুর ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বাবার মতোই তাঁকেও কি দলবিরোধী বলে মনে করছে তৃণমূল? নাকি তিনি এখনও বিশ্বাসযোগ্য? পাশাপাশি, মুকুল রায়ের অতীত ভূমিকা, তাঁর দলবদল এবং বর্তমান অবস্থান নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। একসময় তৃণমূলের অন্যতম সংগঠক হিসেবে পরিচিত মুকুল রায়কে প্রকাশ্যে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলার সিদ্ধান্ত তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির এক বড় ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।






