বাংলাদেশের (Bangladesh) রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। স্বাধীনতার ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি আর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম মুছে ফেলার অভিযোগ উঠেছে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে। রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই আরও এক নতুন সঙ্কট তৈরি হয়েছে। দেশে মৌলবাদী শক্তির উত্থান যেন নতুন মাত্রা পাচ্ছে।
একদিকে, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অস্থিরতা। অন্যদিকে, মৌলবাদী সংগঠনগুলোর বাড়বাড়ন্ত বাংলাদেশে নতুন আশঙ্কা তৈরি করছে। সাধারণ মানুষের মনেও প্রশ্ন—এই পরিবর্তন কি শুধুই রাজনৈতিক, নাকি এর পেছনে আরও গভীর কোনও উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে? শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই দেশজুড়ে নানা রকম চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যেই ৭ মার্চ উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে হাসিনা সরাসরি অভিযোগ তুললেন, বাংলাদেশের ইতিহাস বিকৃত করা হচ্ছে, মুজিবের স্মৃতি মুছে ফেলা হচ্ছে পরিকল্পিতভাবে।
৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের দিন, যা এতদিন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালিত হতো, এবছর থেকে তা বাতিল করা হয়েছে। শেখ হাসিনা অভিযোগ করেছেন, শুধু ছুটির তালিকাতেই নয়, দেশের বিভিন্ন জায়গায় বঙ্গবন্ধুর নাম পরিবর্তন করে বিতর্কিত ব্যক্তিদের নাম বসানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, নতুন সরকার পাকিস্তানপন্থী গোষ্ঠীকে প্রশ্রয় দিচ্ছে, যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী। তাঁর মতে, এটি একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্র, যাতে বাংলাদেশকে মৌলবাদীদের দখলে ছেড়ে দেওয়া যায়।
এই অভিযোগের মধ্যেই শুক্রবার ঢাকার রাস্তায় নেমে আসে শত শত মৌলবাদী। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিজবুত তাহরির বাংলাদেশে খিলাফত গঠনের ডাক দেয়। ইসলামিক স্টেটের (আইএস) কায়দায় তারা মিছিল বের করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে, ফলে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় ঢাকা। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালীন এই গোষ্ঠী নিষ্ক্রিয় ছিল, কিন্তু নতুন সরকারের আমলে তারা আবার সক্রিয় হয়ে উঠছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ কোনও ঘোষণা নেই, তবু থমকে ট্রেন! দমদমে আচমকা বিভ্রাটে অফিসযাত্রীদের চরম দুর্ভোগ!
এদিকে, বিএনপি-জামাতের সঙ্গে চীনের শীর্ষ আধিকারিকদের বৈঠক ঘিরে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের সঙ্গেও এই বিষয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, বাংলাদেশে পরিবর্তনের নেপথ্যে আন্তর্জাতিক শক্তির হাত থাকতে পারে। নয়াদিল্লিও এই পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে। বাংলাদেশে বর্তমান পরিবর্তনের ফলে দেশটি কোন পথে এগোবে, তা নিয়েই এখন শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।





“রাজনীতিতে তারকার খ্যাতি নয়, আদর্শ থাকা জরুরি!” “প্রত্যেককে নিরাপত্তা দেবে এমন একজনই হোক মুখ্যমন্ত্রী!” রাজনীতিতে তারকাদের ভূমিকা ও নির্বাচনে আদর্শহীন প্রার্থীদের নিয়ে অকপট লগ্নজিতা চক্রবর্তী!