জীবন কারও জন্য সহজ নয়। কেউ রুপোর চামচ মুখে নিয়ে জন্মায়, তো কেউ জন্ম থেকেই সংগ্রামের পাঠ নেয়। বাবা-মায়ের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে, ভাইবোনের মুখে হাসি ফোটাতে কত তরুণ-তরুণীই না অক্লান্ত পরিশ্রম করেন! শহরের আলোঝলমলে জীবনের আড়ালে লুকিয়ে থাকে এমন অনেক গল্প, যা আমাদের চোখে পড়ে না। সেই গল্পগুলোরই এক অধ্যায় ছিল ঋষল সিংহের জীবন। দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে নিজের ও পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই তার জীবনে নেমে এল চরম পরিণতি।
সমাজের অনেক তরুণ-তরুণীর মতোই ঋষলও চেয়েছিলেন নিজের পরিশ্রমের জোরে প্রতিষ্ঠিত হতে। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি সংসারের খরচ চালানোর দায়িত্বও ছিল তাঁর কাঁধে। বাবা দিনমজুর, ছোট ভাই স্কুলে পড়ে— সংসারে রোজগার করার মতো কেউ নেই। তাই প্রতিদিন ভোর হলেই সাইকেল নিয়ে খবরের কাগজ বিলি করতে বেরোতেন ঋষল। সকালে যে টাকাটা উপার্জন করতেন, সেটাই ছিল তাঁর পড়াশোনা ও পরিবারের একমাত্র ভরসা। কঠোর পরিশ্রমই যে জীবনের সাফল্যের চাবিকাঠি, সে বিশ্বাস নিয়েই এগিয়ে চলেছিলেন ঋষল। কিন্তু কে জানত, ১ মার্চের সকালই হবে তাঁর জীবনের শেষ সকাল!
সেদিন ভোরেও প্রতিদিনের মতো খবরের কাগজ বিলি করতে বেরিয়েছিলেন ঋষল। রোহিণীর কেএন কাটজু মার্গের কাছে আচমকা এক বেপরোয়া গতির গাড়ি তাঁর সাইকেলে ধাক্কা মারে। ধাক্কার জোর এতটাই ছিল যে ঋষল গাড়ির উইন্ডস্ক্রিনে আছড়ে পড়ে বনেটে আটকে যান। অথচ চালক গাড়ি না থামিয়ে দ্রুত গতিতে চালিয়ে যেতে থাকেন। কিছুদূর যাওয়ার পর ঋষলের দেহ ছিটকে পড়ে, ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।
এই নৃশংস ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাড়ির গতি অত্যন্ত বেশি ছিল এবং চালক দুর্ঘটনার পরও থামেননি। পুলিশ ১৫০টি সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অবশেষে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে। এক সপ্তাহ পর, হরিয়ানার পানিপথ থেকে গ্রেফতার করা হয় দুই অভিযুক্ত পঙ্কজ গুপ্ত ও তাঁর ভাইপো সৌরভকে। তদন্তে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে কাশ্মীরি গেটের এক মন্দির থেকে দ্রুতগতিতে গাড়ি নিয়ে ফিরছিলেন তাঁরা। সেই সময়ই ঋষলকে ধাক্কা মেরে পালিয়ে যান।
আরও পড়ুনঃ তলে তলে বিজেপির সঙ্গে গোপন আঁতাত! কংগ্রেসের ‘বিভীষণ’দের চিহ্নিত করে শুদ্ধিকরণে নামলেন রাহুল
পুলিশি হেফাজতে নিয়ে অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তবে তাতে কি বদলাবে কিছু? যে তরুণ নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে দিনরাত পরিশ্রম করছিলেন, তাঁর জীবনই তো থমকে গেল এক নিমেষে! আজ তাঁর পরিবারে শুধুই শোক আর দুঃখের অন্ধকার। সমাজেরও ভাবার সময় এসেছে— এমন বেপরোয়া গাড়ির দৌরাত্ম্য আর কত প্রাণ কেড়ে নেবে?





