পাকিস্তানের(Pakistan) মাটিতে ফের অশান্তির আগুন জ্বলছে। বালোচিস্তান(Balochistan), সেই অঞ্চল যেখানে বছরের পর বছর ধরে পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে বালোচ বিদ্রোহীরা। তবে এবার পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে। যাত্রীবাহী ট্রেনে হামলা, পাক সেনাকে নিশানা, আর তার জেরে সেনার পাল্টা অভিযানে উত্তপ্ত গোটা বালোচিস্তান। বিদ্রোহীদের দাবি, পাকিস্তান সরকার তাদের অস্তিত্ব মুছে ফেলতে চাইছে। অন্যদিকে, ইসলামাবাদ বলছে, তারা দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় বদ্ধপরিকর। এমন পরিস্থিতিতে দুই পক্ষের সংঘাত কোথায় গিয়ে ঠেকবে, সেই দিকেই নজর বিশ্ববাসীর।
বালোচিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই চলছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। পাক সেনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বারবার বালোচ বিদ্রোহীরা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। তবে এবারের ঘটনা অন্য মাত্রা পেয়েছে। প্রকাশ্যে ট্রেনে হামলা, সেনাদের হত্যা, তারপর ২১৪ জন পণবন্দি— এমন পরিস্থিতি পাকিস্তানে আগে দেখা যায়নি। শুধু তাই নয়, বিদ্রোহীদের তরফে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, যা পাকিস্তানের জন্য বড়সড় চ্যালেঞ্জ। পাকিস্তান কি এই হুঁশিয়ারিকে গুরুত্ব দেবে নাকি আরও বড়সড় সেনা অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করবে, তা এখনই বলা কঠিন।
এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় মঙ্গলবার, যখন কোয়েটা থেকে পেশোয়ারগামী যাত্রীবাহী জাফর এক্সপ্রেসে হামলা চালায় বালোচ বিদ্রোহীরা। ট্রেনের যাত্রীদের মধ্যে পাক সেনাকর্মী, গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর সদস্য এবং নিরাপত্তারক্ষীরা ছিলেন। চলন্ত ট্রেনে হামলা চালিয়ে রেললাইন উড়িয়ে দেয় বিদ্রোহীরা, ফলে ট্রেন দাঁড়িয়ে পড়ে। এরপর ২১৪ জনকে পণবন্দি করা হয়। বালোচ বিদ্রোহীদের তরফে দাবি করা হয়েছে, এই হামলায় ৩০ জনের বেশি পাক সেনা নিহত হয়েছে। বিদ্রোহীদের দাবি, এই অপারেশন ছিল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের অংশ।
আরও পড়ুনঃ শুভেন্দুকে খুনের চক্রান্ত! বিধানসভার অন্দরেই ষড়যন্ত্র, তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দাবি শংকর ঘোষের!
তবে এই ঘটনার পরেই পাকিস্তান সেনা দ্রুত পাল্টা অভিযানে নামে। তাদের দাবি, বিদ্রোহীদের দমন করতেই বড়সড় সেনা অভিযান চালানো হয়েছে, যেখানে ১৬ জন বিদ্রোহীকে হত্যা করা হয়েছে এবং ১০৪ জন পণবন্দিকে মুক্ত করা হয়েছে। যদিও বিদ্রোহীরা এই দাবি সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, সেনার হামলায় কোনও বিদ্রোহীর মৃত্যু হয়নি, বরং পাকিস্তান সরকার মিথ্যা প্রচার করছে। বিদ্রোহীদের তরফে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে— যদি বন্দি বালোচ নেতাদের মুক্তি না দেওয়া হয়, তাহলে আরও ১০ জন পণবন্দিকে হত্যা করা হবে এবং ট্রেন সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
এই পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদ চরম চাপে পড়েছে। একদিকে বিদ্রোহীদের হুমকি, অন্যদিকে সেনা অভিযানের চাপ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি পাকিস্তান সেনা শক্তি প্রয়োগ করে, তবে বালোচিস্তানে আরও বড়সড় সংঘাত দেখা দিতে পারে। বিদ্রোহীরা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে। এখন দেখার, পাকিস্তান সরকার কী পদক্ষেপ নেয়— বিদ্রোহীদের দাবি মেনে নেয়, নাকি আরও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পথে এগিয়ে যায়।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার