Ssc verdict: ১০ বছর আগে পরীক্ষায় পাস, তবু চাকরি গেল! ফের পরীক্ষার সিদ্ধান্তে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ২৬,০০০ শিক্ষক

শিক্ষাক্ষেত্রে এক প্রবল ঝড় বইয়ে দিল সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়। বহু যুবক-যুবতীর স্বপ্নের চাকরি, যা একদিন তাঁদের জীবনের স্থিরতা এনে দিয়েছিল, আজ তা এক ঝটকায় বাতিল হয়ে গেল। রাজ্যের হাজার হাজার পরিবারের আর্থিক সুরক্ষা প্রশ্নের মুখে। স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনা যেমন প্রবল, তেমনই কিছু চাকরিপ্রার্থী এই রায়কে সুবিচার বলে মনে করছেন। ফলে, এক জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে গোটা রাজ্যে।

দীর্ঘদিন ধরে চাকরি হারানোর আশঙ্কায় থাকা শিক্ষকদের আজকের রায়ের পর চোখে জল। আবার অন্যদিকে, বছরের পর বছর রাস্তায় বসে আন্দোলন করা বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীরা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, তাহলে কি আবার নতুন করে নিয়োগ হবে? যাঁরা এতদিন এই চাকরির উপর নির্ভরশীল ছিলেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ কী হবে? এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে বাংলা।

সুপ্রিম কোর্ট আজ জানিয়ে দিল, এসএসসি দুর্নীতি মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের রায়ই চূড়ান্ত। ২৫,৭৫৩টি চাকরি বাতিল করা হবে এবং চাকরিপ্রাপ্তদের এতদিন যে বেতন দেওয়া হয়েছে, তা ফেরত দিতে হবে। নিয়োগ পর্ষদ যথাযথভাবে যোগ্য ও অযোগ্য প্রার্থীদের পৃথক করতে পারেনি, তাই গোটা প্যানেলকেই অবৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, যখন পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াই অবৈধভাবে পরিচালিত হয়েছে, তখন কিছু অংশকে বৈধ বলে ঘোষণা করা সম্ভব নয়।

এই রায়ের ফলে চাকরি হারানো শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন, কেউ কেউ ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, তাঁরা এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, অথচ চাকরি হারানোর শাস্তি তাঁদেরই ভোগ করতে হচ্ছে। চাকরি হারানো অনেকেই বলছেন, “১০ বছর আগে আমরা যে পরীক্ষা দিয়েছিলাম, সেটি আবার দিলে পাস করব কিনা, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তখনকার প্রস্তুতি আর এখনকার পরিস্থিতি তো এক নয়!” তাঁদের দাবি, নতুন নিয়োগ পরীক্ষায় শুধু আগের ২৬ হাজার পরীক্ষার্থী থাকবেন, নতুন কেউ সুযোগ পাবেন না, তবু তাঁদের ভয় কাটছে না। এই সিদ্ধান্তে তাঁরা চরম হতাশ।

আরও পড়ুনঃ Weather update : গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা! বৃহস্পতিবার থেকেই স্বস্তির বৃষ্টি, জানুন কোন জেলায় বর্ষণের সম্ভাবনা!

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি নতুন করে ২৬ হাজার শূন্যপদে নিয়োগ হবে? এসএসসি কি নতুন পরীক্ষা নেবে? যদিও আদালত এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু বলেনি, তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সরকার চাইলে নতুন পরীক্ষা নেওয়া হতে পারে। রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীও জানিয়েছেন, বিষয়টি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে এখনই কিছু চূড়ান্ত বলা সম্ভব নয়। এই রায়ের ফলে রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল, কিন্তু চাকরি প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এখনও অনিশ্চিত।

আরও অন্যান্য খবর