বাংলায় বিয়ে আর চাকরির সম্পর্ক যেন এক অদ্ভুত সমীকরণ! চাকরি মানেই জীবনের নিশ্চয়তা, ভবিষ্যতের নিরাপত্তা। বিশেষত সরকারি চাকরি থাকলে তা যেন পাত্রের গায়ে স্বর্ণমুকুট পরানোর সমান। তাই বিয়ের বাজারে সরকারি চাকরিপ্রাপ্তদের কদর অন্যরকম। সরকারি মাস্টার, ব্যাঙ্কের অফিসার কিংবা রেলওয়ের কর্মচারী হলে পাত্রের চাহিদা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। অথচ চাকরির অভাবে বিয়ে না হওয়ার গল্পও কম নেই। ক’জন তো প্রেম করেও শেষমেশ পছন্দের মানুষটিকে হারিয়েছে, কারণ “চাকরি নেই”!
এমনই এক গল্প নদিয়ার শান্তিপুরে। যেখানে চাকরি ছিল বলেই জাতপাতের বেড়াজাল ডিঙিয়ে একজন পাত্র বিয়ের সুযোগ পেয়েছিলেন। আর সেই একই চাকরি হারানোর পর সেই জামাইয়ের জন্য কাঁদছেন তাঁর শ্বশুর! ঘটনাটি আরও মজার তখনই হয়ে ওঠে, যখন জানা যায়, একসময় প্রেমের পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়া এক যুবক এখন এই ঘটনার কথা শুনে মুচকি হাসছেন। আসলে, তাঁর সরকারি চাকরি না থাকায় যে মেয়েকে বিয়ে করতে পারেননি, সেই মেয়েই আজ এক সরকারি মাস্টারের স্ত্রী। আর সেই মাস্টারের চাকরিই গেছে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে!
বছর কয়েক আগে চ্যাটার্জি পরিবারে বিয়ের আলোচনা চলছিল। পরিবারের পছন্দ ছিল না কারণ পাত্র ব্রাহ্মণ ছিলেন না। তবে সরকারি চাকরির ভারেই শেষমেশ রাজি হতে হয়। বলা ভালো, পাত্রীর বাবার কাছে চাকরির গুরুত্ব ছিল জাতপাতের ঊর্ধ্বে। আর তাই আপত্তি সরিয়ে বিয়েটা হয়েছিল ধুমধাম করে। নতুন জামাইকে নিয়ে আত্মীয়-স্বজনদের প্রশংসারও শেষ ছিল না। কেউ বলেছিল, “সরকারি মাস্টার, বেশ পেয়েছিস!” কেউ আবার বলেছিল, “এই চাকরি মানেই স্থায়িত্ব!”
কিন্তু বাস্তব বড়ই নিষ্ঠুর! সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ে ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল হয়েছে। তালিকায় সেই জামাইও রয়েছেন। সকালবেলা খবরের চ্যানেল খুলেই শ্বশুরমশাই যখন জানতে পারলেন যে জামাই চাকরি হারিয়েছেন, তখন তিনি রীতিমতো কান্নায় ভেঙে পড়লেন। কাঁদতে কাঁদতে বললেন, “ব্রাহ্মণ না হলেও ও খুব ভালো ছেলে! শুধু চাকরিটাই ছিল ভরসা, সেটাও গেল!”
আরও পড়ুনঃ Weather update : গরমে নাজেহাল রাজ্য! আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস কি সুখবর নাকি আরও দুঃসংবাদ?
আর তখনই আরেক জায়গায় অন্য দৃশ্য। এক ব্যর্থ প্রেমিক এই খবর শুনে মুচকি হেসে বলে উঠলেন, “আমার সরকারি চাকরি ছিল না বলে বিয়ে দিল না! আজ শুনছি সেই মাস্টারের চাকরিই নেই!” বাস্তবের এই মোড় যেন সিনেমার থেকেও নাটকীয়। তবে এটি শুধুই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ৫৪৮৫ জন শিক্ষক আর চাকরিতে ফিরতে পারবেন না, এবং তাঁদের বেতনও ফেরত দিতে হবে। অন্যদিকে, নতুন করে নিয়োগ হবে ২৬ হাজার শূন্যপদে। তবে তাতে সুযোগ পাবেন শুধুমাত্র ২০১৬-র চাকরিপ্রার্থীরা। প্রশ্ন উঠছে, সরকারি চাকরির মোহ কি সম্পর্কের থেকেও বড়? জীবন কি শুধুই একটা সরকারি চাকরির কাগজের ওপর দাঁড়িয়ে? উত্তর সময় দেবে।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার