Recruitment Case: ২৬ হাজার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার! চাকরি না ফিরলে মৃত্যু চাই — কান্নায় ভাসল শিক্ষক পরিবার

আজ যাঁদের আমরা শিক্ষক হিসেবে চিনতাম, স্কুলের ক্লাসে দেখতাম কিংবা পাড়ার কোনও অনুষ্ঠানে তাঁদের পাশে পেতাম, তাঁরাই আজ রাস্তায়। কখনও বিক্ষোভ, কখনও মিছিল, কখনও পুলিশের বাঁধা। অথচ, কয়েক মাস আগেও জীবনের গতি ছিল একেবারেই অন্যরকম। সংসার, স্কুল, ছাত্র-ছাত্রী, সবই ছিল এক ছন্দে বাঁধা। কিন্তু হঠাৎই যেন সব উলটপুরান। সমাজে এখন তাঁদের পরিচয় ‘চাকরিচোর’! মাথা উঁচু করে চলার সাহসটুকুও যেন কেড়ে নিয়েছে বর্তমান পরিস্থিতি।

তাঁদের পাশে নেই সরকারি চাকরির নিরাপত্তা, নেই মাস শেষে বেতন পাওয়ার নিশ্চয়তা। চারদিকে শুধুই অভিযোগ, তিরস্কার আর কটাক্ষ। পাড়ার দোকান হোক কিংবা আত্মীয়ের বাড়ি, সবার চোখে তাঁরা ‘অযোগ্য’! অথচ কেউ ভাবেন না, এই পরিস্থিতির জন্য সত্যিই কি তাঁরা দায়ী? যোগ্য হয়েও কি তাঁদের এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে? সমাজে এ যেন এক নতুন ট্র্যাজেডি, যার শিকার বাংলার হাজার হাজার পরিবার।

সম্প্রতি বাঁকুড়া জেলার কৃষক বাজার এলাকায় দেখা গেল এক অন্য ছবি। যাঁরা একসময় স্কুলের শ্রেণীকক্ষে পড়াতেন, বই, খাতা, কলম ছিল যাঁদের জীবনের অংশ, আজ তাঁরা রাস্তায়। তাঁদের পাশে রয়েছে পরিবার, স্বামী, স্ত্রী, সন্তান, মা-বাবা। সকলের গলাতেই একটাই স্লোগান— “হয় চাকরি ফিরিয়ে দিন, নয় স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দিন”। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ এবং সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বাতিল হয়েছে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি। বাঁকুড়া জেলায় সেই সংখ্যা হাজারেরও বেশি। দুর্নীতির অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত। কিন্তু তাঁদের দাবি, অনেকেই যে প্রকৃত অর্থেই যোগ্য ছিলেন, সেই বিচার কে করবে?

নিজেদের দাবিতে সরব চাকরিহারারা, সামনে রেখেছেন ১ বৈশাখের আল্টিমেটাম

চাকরি চলে যাওয়ার পর থেকেই মানসিকভাবে বিধ্বস্ত বহু পরিবার। কেউ কেউ গ্রামে, শহরে মুখ দেখাতে পারছেন না। অথচ তাঁদের দাবি, তাঁরা পরীক্ষায় পাশ করেই চাকরি পেয়েছিলেন। কারও কারও সংসারে টানাটানি, কারও সন্তানের পড়াশোনা অনিশ্চিত। এই অবস্থায় যোগ্য-অযোগ্য বাছাই করে প্রকৃত যোগ্যদের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে বাঁকুড়ার কৃষক বাজারে বিক্ষোভে নামলেন তাঁরা। সঙ্গে সরকারের উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারি। ১ বৈশাখের মধ্যে যদি সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান না হয়, তবে নবান্ন অভিযানে নামার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। ইতিমধ্যে ১২ থেকে ১৩টি সংগঠন একজোট হয়েছে।

চাকরিহারাদের দাবি, গাফিলতি রাজ্য সরকারের, আর শাস্তি পাচ্ছেন নির্দোষরা

চাকরিহারাদের অভিযোগ, এই দুর্নীতির দায় তাঁদের নয়। যোগ্যতার পরীক্ষা দিয়েই চাকরি পেয়েছিলেন তাঁরা। তবে রাজ্য সরকারের (West Bengal Government) গাফিলতিতে তাঁদের আজ এই পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে। যাঁরা সত্যিই অপরাধী, তাঁদের শাস্তি হোক, কিন্তু প্রকৃত যোগ্যদের কেন এই অপমান? একের পর এক চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকার আর্তি, সংসারের হাল বাঁচাতে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিক। নাহলে এমন পরিস্থিতিতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন অনেকেই।

আরও পড়ুনঃ Ram Navami : দিতে দিতে মিছিল, হাতিয়ার হাতে ঝাঁপাল জনতা! রামনবমী ঘিরে রাজ্য জুড়ে বাড়তি নজরদারি পুলিশের

চাকরি ফেরতের দাবি না মানলে নবান্ন অভিযান, নয়তো স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি— সাফ বার্তা চাকরিহারাদের

সবশেষে চাকরিহারাদের স্পষ্ট বার্তা, আর ধৈর্য নেই। হয় চাকরি ফিরিয়ে দিতে হবে, নয় তাঁদের স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দিতে হবে। কারণ, এইভাবে অপমান, আর্থিক দুরবস্থা, সামাজিক বঞ্চনার মধ্যে বাঁচা তাঁদের পক্ষে আর সম্ভব নয়। সরকার যদি ১ বৈশাখের মধ্যে সমস্যার সমাধান না করে, তাহলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই নিয়েছেন চাকরিহারারা। আর সেই আন্দোলনের প্রথম লক্ষ্য নবান্ন অভিযান।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর