কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University) বরাবরই রাজনীতি, প্রতিবাদ, মতাদর্শের সংগ্রামের কেন্দ্র। নানা সময়ে নানা ইস্যুতে উত্তাল হয়েছে এই ক্যাম্পাস। তবে এবারে চিত্রটা একটু আলাদা। ক্যাম্পাসের চেনা আন্দোলন বা প্রতিবাদের রং ছাপিয়ে উঠে এসেছে গেরুয়া ছোঁয়া। কারণ, এই প্রথম যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে বসেছে রাম পুজো । আর তা ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। কেউ বলছেন, এটা ধর্মীয় বিশ্বাস, কেউ বা বলছেন রাজনীতির হাতিয়ার।
গত কয়েকদিন ধরেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে নজরে পড়েছে গেরুয়া পতাকা। ক্যাম্পাসের মধ্যে তৈরি হয়েছে পুজোর মণ্ডপ। সেখানে রামের মূর্তি বসিয়ে চলছে পুজো। জানা গিয়েছে, এবিভিপি (ABVP)-র তরফ থেকে এই আয়োজন করা হয়েছে। পড়ুয়াদের একাংশ জানিয়েছেন, “এখানে ইফতার, সরস্বতী পুজো হতে পারে, তাহলে রাম পুজো কেন নয়?” তবে অন্যদিকে একাংশ ছাত্র বলছে, “যাদবপুরের নিজস্ব পরিচিতির মধ্যে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ঢোকানো ঠিক নয়।”
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবশ্য এই পুজোর অনুমতি দেননি। তাঁদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও উপাচার্য নেই, ফলে অনুমতি দেওয়ার প্রশ্ন নেই। এমনকি একটি অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কোনও অনুষ্ঠান করা যাবে না। রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী উপাচার্যকে সরিয়ে দিয়েছেন। সেই পরিস্থিতিতে নিয়ম ভেঙে পুজো করায় নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এদিকে এবিভিপি-র কলকাতা জেলা সম্পাদক দেবাঞ্জন পাল জানিয়েছেন, “আমরা অনুমতির মুখাপেক্ষী নই। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় পশ্চিমবঙ্গের বাইরে নয়। এখানে ইফতার হতে পারে, সরস্বতী পুজো হতে পারে, তাহলে রাম পুজো কেন হবে না? এটা আমাদের অধিকার।” তাঁর এই মন্তব্যের পর বিতর্ক আরও বেড়ে গিয়েছে। পড়ুয়াদের একাংশ বলছেন, এর পিছনে লুকিয়ে আছে রাজনীতি।
আরও পড়ুনঃ Recruitment Case: ২৬ হাজার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার! চাকরি না ফিরলে মৃত্যু চাই — কান্নায় ভাসল শিক্ষক পরিবার
সব বাধা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়ে গেল রাম পুজো। ক্যাম্পাসের মধ্যে দেখা গেল গেরুয়া পতাকা, শোনা গেল ‘জয় শ্রীরাম’-এর স্লোগান। এক সময়ের বামপন্থী ভাবনার ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন দৃশ্য নিঃসন্দেহে নজর কেড়েছে সকলের। বিশেষ করে, এর আগেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে পড়ুয়াদের উদ্যোগে ইফতার অনুষ্ঠানও হয়েছে। ফলে, এবার রাম পুজো ঘিরে বিতর্ক যতই থাকুক না কেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় যে এখন এক নতুন ধর্মীয়-রাজনৈতিক পরিচয়ের সাক্ষী, তা বলাই বাহুল্য।






