কয়েক হাজারেরও বেশি বেকার, যোগ্য শিক্ষক দিনের পর দিন রাজপথে বসে রয়েছেন। পকেটে টাকা নেই, হাতে নেই চাকরির নিশ্চয়তা। সকাল থেকে রাত—শুধু একটাই স্লোগান—”চাকরি চাই, ন্যায্য অধিকার চাই!” কেউ এসেছেন মুর্শিদাবাদ থেকে, কেউ নদীয়া, কেউ বা কলকাতারই প্রান্তিক এলাকা থেকে। মুখে হতাশা, মনে রাগ—তবু আশাটুকু নিয়ে অনশনের মাটিতে বসে আছেন প্রত্যেকে।
কিন্তু এই আন্দোলন যখন রাজ্যের প্রশাসনকে কাঁপিয়ে তুলেছে, ঠিক তখনই ঘটে গেল এমন এক ঘটনা, যা মুহূর্তে ভাইরাল নেটদুনিয়ায়। জনতার মিছিলের মাঝে এক ব্যক্তি হঠাৎ চিৎকার করে উঠে যা বললেন, তা শুনে স্তব্ধ সকলে। সাধারণ বিক্ষোভ নয়, বরং এমন হুমকি যেটা ঘি ঢালতে পারে রাজ্যের আগুনে রাজনীতিতে!
ঘটনাটি ঘটেছে কসবা DI অফিসের সামনে চলতে থাকা শিক্ষক আন্দোলনের মঞ্চে। এক তৃণমূলপন্থী শিক্ষক যার নাম প্রতাপ রায় চৌধুরী, হঠাৎ করে পুলিশের উদ্দেশ্যে চিৎকার করে বলে ওঠে — “পেট্রোল দিয়ে সব জ্বালিয়ে দেব!” মুহূর্তে ভিডিওতে বন্দি হয় সেই দৃশ্য। আর এই ভিডিও নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে শেয়ার করে কলকাতা পুলিশ। সেই ভিডিওর ক্যাপশন থেকেই স্পষ্ট — আন্দোলনকারীদের তরফে এই হুমকি এসেছে।
কিন্তু এখানেই শুরু বিতর্ক। বিরোধীদের অভিযোগ, এই ভিডিও পরিকল্পিত। বিজেপি-সহ একাধিক বিরোধী দল দাবি করেছে, প্রতাপ রায় চৌধুরী আদতে তৃণমূল কংগ্রেসের একনিষ্ঠ কর্মী। উনি নিজেও একজন চাকরিহারা শিক্ষক এবং তৃণমূল সমর্থক। তবে ওনার উদ্দেশ্য কি শিক্ষকদের পাসে একসাথে আন্দোলন করা নাকি প্রশাসনকে সুবিধা করে দেওয়া এই নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা। আন্দোলনের পর থেকে প্রতাপকে আর সেভাবে দেখা যায়নি বলেও দাবি। জানা গিয়েছে, প্রতাপ দিনভর কসবা DI অফিসে ঘোরাফেরা করেছে। ফলে বিরোধীদের অভিযোগ, এই ভিডিও তৈরি হয়েছে ইচ্ছাকৃতভাবে, শিক্ষক আন্দোলনকে কলুষিত করার লক্ষ্যে।
আরও পড়ুনঃ Bratya Basu : আবারও ফাইলের ভাঁজে চাপা পড়বে না তো ২৬ হাজার শিক্ষকের স্বপ্ন? আজ ব্রাত্য বসুর বৈঠক ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে
তবে কলকাতা পুলিশের যুক্তি আলাদা। তাদের দাবি, যারা আইন হাতে তুলে নেবে বা হিংসার পথে হাঁটবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবেই। তবে প্রশ্ন একটাই—যে শিক্ষকরা এতদিন শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন, সেই মঞ্চে কেন এবং কীভাবে তৃণমূল ঘনিষ্ঠ একজন শিক্ষক এমন উস্কানিমূলক কথা বলল? আদতে কি এটা পরিকল্পিত চক্রান্ত? নাকি সত্যিই পরিস্থিতির বাইরে গিয়েছিল নিয়ন্ত্রণ? উত্তর এখনও অধরা। তবে প্রতাপ রায় চৌধুরীর সেই ভিডিও ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে যে বিতর্কের আগুন জ্বলছে, তা নিঃসন্দেহে অস্বীকার করার উপায় নেই।






