অধিকার নিয়ে রাস্তায় নামা মানুষের ছবি আমরা কতবার দেখেছি! কেউ চাকরি ফেরতের দাবিতে, তো কেউ ন্যায্য মজুরির দাবিতে কিংবা কেউ বা নিছক বিচার চাইতে রাজপথে নামে। কখনও তাঁদের হাতে প্ল্যাকার্ড, কখনও গলায় প্রতিবাদের পোস্টার। এই সব ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় যেমন ভাইরাল হয়, তেমনই বহু মানুষের সহানুভূতি কুড়িয়েও নেয়। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন, প্রতিবাদে নামার সেই সাহসের বদলে যদি প্রতিদানে জোটে পুলিশের লাথি-ঘুষি? কেমন লাগে তখন?
ঠিক এমনই এক ঘটনা ঘটেছে কলকাতার বুকে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা এক ঝাঁক চাকরি হারানো শিক্ষক-শিক্ষিকারা পথে নেমেছিলেন নিজেদের ন্যায্য দাবি আদায় করতে। উদ্দেশ্য ছিল, স্কুল পরিদর্শকের (DI) অফিস ঘেরাও করে তাঁদের সমস্যার কথা জানানো। কিন্তু সেই আন্দোলন মুহূর্তেই অন্য মোড় নিল। প্রতিবাদের ভাষা থামাতে নেমে এল পুলিশ। শুরু হল ধস্তাধস্তি, তারপর… যা ঘটল, তা অবাক করেছে গোটা রাজ্যকে।
মূল ঘটনা ঘটে কসবায়। চাকরিহারা শিক্ষকদের এই প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, আন্দোলনকারীদের শান্ত করার নামে চলে বলপ্রয়োগ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় একাধিক ভিডিও। আর তাতেই দেখা যায়, কসবা থানার SI রিটন দাস, যাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি লাথি মারার অভিযোগ উঠেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, আন্দোলনকারীদের হঠাতে SI নিজে পা তুলে লাথি মারছেন। এই ছবি মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে। সৃষ্টি হয় তীব্র বিতর্কের।
ঘটনার জেরে নড়েচড়ে বসে লালবাজার। পুলিশের তরফে জানানো হয়, চাকরিহারা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দু’টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে ৮টি ধারা। এর মধ্যে ৩টি ধারা জামিন অযোগ্য। জানা গিয়েছে, এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব ছিল SI রিটন দাসের ওপরেই। কিন্তু যখন তদন্তকারী অফিসারের বিরুদ্ধেই মারধরের অভিযোগ, তখন স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন ওঠে নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়ে।
আরও পড়ুনঃ West Bengal : শিক্ষক আন্দোলনের ভিড়ে ‘পেট্রোল’ দিয়ে পুলিশ জ্বালানোর হুমকি! বিরোধীদের দাবি — তৃণমূলের পরিকল্পিত প্ল্যানিং ছিল!
আর তাই শেষ পর্যন্ত বড় সিদ্ধান্ত নিল কলকাতা পুলিশ। বিতর্কের জেরে তদন্তের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে SI রিটন দাসকে। পুলিশের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে তাঁর হাত থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে এই মামলা। তদন্তের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে অন্য অফিসারের কাঁধে। একদিকে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রতিবাদ, অন্যদিকে পুলিশের ভূমিকা— এই দ্বন্দ্বের মাঝে বড় প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে— প্রতিবাদ কি তাহলে কোনও দিনই সহজ হবে না এই শহরে?






