Murshidabad : বাজার খুলেছে, বিড়ি শ্রমিকেরাও কাজে ফিরছেন—তবু আতঙ্ক কাটেনি! মুর্শিদাবাদে গ্রামে গ্রামে চলছে শান্তি বৈঠক!

নববর্ষ মানেই নতুন আশা, নতুন শুরু। তবে এই বছরের সূচনা একটু অন্যরকম। কারণ শুধু ক্যালেন্ডারের পাতাই নয়, মুর্শিদাবাদের বহু মানুষের মনেও যেন শান্তির নতুন আলোর সঞ্চার হয়েছে। কয়েক দিনের টানটান উত্তেজনার পরে, এবার যেন একটু নিঃশ্বাস নেওয়ার সময় এসেছে। সাধারণ মানুষ চাইছেন স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে, চাইছেন শান্তির পরিবেশ।

গ্রামের বাজার থেকে ছোট ছোট মহল্লা— সর্বত্র এখন একটা শান্তির ছোঁয়া। মিষ্টির দোকানের সামনে জড়ো হওয়া কিছু মানুষ বলছেন, “অনেক দিন পর মনে হচ্ছে, আবার সব কিছু আগের মতো হচ্ছে।” কিন্তু এমন পরিস্থিতি তো হঠাৎ করে আসেনি। এর পেছনে আছে প্রশাসনের তৎপরতা ও সাধারণ মানুষের সহনশীল মনোভাব। পরিস্থিতি যে বদলাচ্ছে, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে নববর্ষের দিন সকালে।

গত কয়েক দিন ধরে মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন এলাকায় চলা অশান্তি ঠেকাতে পুলিশের তরফে নেওয়া হয়েছে একাধিক পদক্ষেপ। রবিবার থেকেই শুরু হয়েছিল ‘শান্তি বৈঠক’। সোমবার তা আরও ব্যাপক আকার নেয়। ব্লক, পঞ্চায়েত, এমনকি পাড়ায় পাড়ায় এই ধরনের শতাধিক বৈঠক হয়েছে। কোথাও থানার ওসি, কোথাও রাজ্য পুলিশের অফিসার অন স্পেশ্যাল ডিউটি (ওএসডি)— সকলে উপস্থিত থেকে এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন। তৈরি করে দেওয়া হয়েছে ‘শান্তি কমিটি’, যেখানে স্থানীয় ভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মূল উদ্দেশ্য একটাই— নতুন করে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যেন না তৈরি হয়।

এই শান্তির উদ্যোগে আস্তে আস্তে গ্রামে ফিরছে স্বাভাবিকতা। ধুলিয়ান এবং সামশেরগঞ্জ এলাকায় বিড়ি শ্রমিকদের কারখানা আবার খুলতে শুরু করেছে। মহল্লাগুলিতে আবার ধোঁয়া উঠছে বিড়ির প্যাকেট থেকে। কেউ বলছেন, “ভাত জোটানোর রাস্তা আবার খুলেছে।” শুধু তাই নয়, ধুলিয়ান বাজার এলাকায় একাধিক মিষ্টির দোকান, ওষুধের দোকান ও কাপড়ের দোকান খোলা থাকতে দেখা গিয়েছে মঙ্গলবার সকালে। ক্রেতার সংখ্যাও ছিল চোখে পড়ার মতো, যদিও তা এখনও স্বাভাবিকের তুলনায় কম।

আরও পড়ুনঃ Suvendu Adhikari : ‘২৩ লক্ষ চাকরিপ্রার্থীর সঙ্গে অন্যায়, দিল্লি গিয়ে নাটক’—মেহবুবকে নিশানা করে তোপ দাগলেন শুভেন্দু অধিকারী!

এই পুরো প্রক্রিয়ায় রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর যৌথ ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্য পুলিশের এডিজি (দক্ষিণবঙ্গ) সুপ্রতিম সরকার জানিয়েছেন, প্ররোচনার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হয়েছে। একই সুর বিএসএফ-র ডিআইজি নীলোৎপল পাণ্ডের গলাতেও। তাঁর কথায়, “আমরা ধৈর্য ধরছি, কিন্তু কোনও উস্কানি বরদাস্ত করব না।” তাঁদের মূল লক্ষ্য, ঘরছাড়া পরিবারগুলিকে আবার ফিরিয়ে আনা এবং উপদ্রুত এলাকাগুলিতে স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করা। নববর্ষের সকালে মিষ্টির দোকান খোলা থাকাটাই যেন এই শান্তির প্রথম চিহ্ন— একটা নতুন ভোরের, নতুন আশার।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর