বাঙালির খাওয়া-দাওয়ার তালিকায় যদি ‘বিরিয়ানি’ না থাকে, তাহলে তালিকাটা যেন অপূর্ণই থেকে যায়। বিশেষ করে সপ্তাহান্তে বা বিশেষ দিনে প্রিয় মানুষদের সঙ্গে এক প্লেট সুগন্ধি বিরিয়ানি ভাগ করে নেওয়ার অভ্যাস বাঙালির বহু পুরনো। সেই কারণেই যখন কোনও রেস্টুরেন্ট বিরিয়ানির উপর বিশেষ অফার ঘোষণা করে, তখন সাধারণ মানুষ সেখানে ছুটে যান স্বাদ ও সাধ্যের সংমিশ্রণে একবেলা ভাল খাওয়ার আশায়।
তবে শুধু অফার থাকলেই তো হয় না, সঙ্গে থাকতে হয় গুণগত মান ও পরিষেবার সঠিক সমন্বয়। অনেক সময় অতিরিক্ত প্রচার কিংবা জনপ্রিয়তার চাপে পড়ে খাবারের মান বা পরিষেবায় অবনতি ঘটে—যার ফল ভোগ করতে হয় সাধারণ গ্রাহকদের। দীর্ঘ অপেক্ষা, খাবারের অপ্রতুলতা বা দোকানের তরফে অব্যবস্থা অনেক সময় হতাশ করে খাদ্যপ্রেমীদের। আর ঠিক এমনই এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে সম্প্রতি এক জনপ্রিয় ফুড ব্লগারকে, যা এখন রীতিমতো আলোচনার কেন্দ্রে।
ঘটনাটি ঘটেছে চাকদাহ অঞ্চলের ‘একান্ত আপন’ রেস্টুরেন্টে। ওই রেস্টুরেন্ট বিরিয়ানির উপর বিশেষ অফার চালু করে, যার ফলে বহু মানুষ সেখানে ভিড় করতে থাকেন। সেই ভিড়ের মধ্যেই একজন খ্যাতনামা ফুড ব্লগার সেখানে খেতে যান তাঁর রিভিউ করার উদ্দেশ্যে। তবে শুরু থেকেই পরিস্থিতি অনুকূল ছিল না। রেস্টুরেন্টে পৌঁছে তাঁকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। যদিও এই ধরনের ভিড় অফার চলাকালীন সময়ে খুবই স্বাভাবিক, তবু একজন ফুড ব্লগারের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে।
দেড় ঘণ্টার বেশি সময় অপেক্ষা করার পরে যখন খাবার আসার কথা ছিল, তখন রেস্টুরেন্ট থেকে জানানো হয়—তাদের বেশ কয়েকটি আইটেম শেষ হয়ে গেছে এবং সেই খাবার পরিবেশন সম্ভব নয়। এতে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ হন ব্লগারটি। তিনি এই অভিজ্ঞতা তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে বিস্তারিতভাবে শেয়ার করেন এবং দর্শকদের সেখানে না যাওয়ার পরামর্শ দেন। ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং বহু দর্শক নিজেদের মতো করে মতামত জানাতে থাকেন। কেউ কেউ তাঁদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন, যেখানে পরিষেবা নিয়ে অসন্তোষের কথা উঠে আসে।
আরও পড়ুনঃ Murshidabad : ওষুধ নেই, বাইরে বেরোনোর অনুমতি নেই—মুর্শিদাবাদে ওয়াকফ আই-এর জেরে নরকযন্ত্রণা ঘরছাড়াদের
এই ঘটনার ফলে ‘একান্ত আপন’ রেস্টুরেন্ট এখন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া না জানালেও, এই ঘটনাটি ভবিষ্যতে তাদের ব্যবসার উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকেই। খাবারের মান যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই পরিষেবার অভাব অনেক সময় জনপ্রিয়তাকে ম্লান করে দেয়—এই ঘটনাই তার জ্বলন্ত উদাহরণ।





