Assault and Threats in Restaurant: বাচ্চার বিরিয়ানি দোকানে আতঙ্কের রাত! এগরোল দিতে দেরি করায় গালিগালাজ, দোকানে চড়াও হয়ে বাচ্চাকে মারধর— সিসিটিভিতে ধরা পড়ল লজ্জার ছবি!

বর্তমান সমাজে যেন ক্রমশ কমে যাচ্ছে সহনশীলতা। দিন যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে হিংসা, রাগ এবং মুহূর্তের উত্তেজনায় ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা। আগের দিনের সমাজে যেখানে মানুষ একটু ঠাণ্ডা মাথায় ভেবে তবেই কোনো পদক্ষেপ নিত, এখন সেখানে সামান্য কথাতেই দেখা যায় বড়সড় অশান্তি। সামাজিক মাধ্যমে প্রতিনিয়ত এমন ঘটনার খবর সামনে আসে যেখানে বুঝতে অসুবিধা হয়, মানুষ কি ক্রমে মানবিকতা হারিয়ে ফেলছে?

বিশেষ করে শহরাঞ্চলে বা মফস্বলে অ্যালকোহল বা মাদকজাত দ্রব্যের প্রভাব ব্যাপকভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সন্ধে নামলেই কিছু নির্দিষ্ট অংশে দেখা যায় কিছু ব্যক্তি রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে মদ্যপান করছেন, কেউ আবার দোকানে ঢুকে অকারণে উত্তেজনা তৈরি করছেন। এই মদ্যপান থেকে তৈরি হয় অসংযত আচরণ, যার ফলে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, এই নেশাগ্রস্ত অবস্থায় থাকা ব্যক্তিরাই ছোটখাটো বিষয়েও মারমুখী হয়ে উঠছেন।

কিছু মানুষের মধ্যে আবার নেশার সঙ্গে মিশে যায় ক্ষমতার দম্ভ। তাঁরা ভাবেন, তাঁদের সঙ্গে কেউ কিছু করতে পারবে না, ফলে ছোটখাটো কারণে তাঁরা তৈরি করে ফেলেন অশান্তি। দোকান, রাস্তা বা বাস-অটোর মতো জনসমাগমস্থলে হঠাৎ করে তাঁরা উত্তেজিত হয়ে যান, আর সাধারণ মানুষ পড়ে যান চরম ভোগান্তিতে। ছোট ব্যবসায়ী বা দোকানদাররা বিশেষভাবে এমন অবস্থায় আতঙ্কিত থাকেন, কারণ তারা জানেন না কখন তাঁদের লক্ষ্য করা হবে।

ঠিক এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে সম্প্রতি হাবরার এক দোকানে। যেখানে মদ্যপ অবস্থায় থাকা এক ব্যক্তির আচরণ ঘিরে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। সাধারণ এক অর্ডার ঘিরেই শুরু হয় গালিগালাজ, পরবর্তীতে গিয়ে তা গড়ায় প্রাণনাশের হুমকিতে। দোকানের মালিক দেবাশিস মল্লিক, যাঁকে সকলে ‘বাচ্চা’ নামে চেনেন, তাঁর সঙ্গে ঘটে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা। ঘটনার সময় দোকানে উপস্থিত ছিলেন বহু ক্রেতা ও কর্মচারী, যাঁরা প্রত্যক্ষদর্শী এই হামলার।

আরও পড়ুনঃ ” পাক সেনা দোষী, শিল্পীরা নয়!”— পেহেলগাঁও হামলার পর ক্রুদ্ধ পাক অভিনেত্রী, ভারতের কাছে অনুরোধ করে ইউটিউব চ্যানেল ফেরত চান!

সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত সুবীর ঘোষ প্রথমে গালিগালাজ করে চলে গেলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই দলবল নিয়ে ফিরে এসে বাচ্চার দোকানে চড়াও হন। দোকানের কর্মী ও মালিককে মারধর করা হয়, দেওয়া হয় প্রাণনাশের হুমকি। আতঙ্কিত হয়ে বাচ্চা রাতেই হাবরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলের সিসিটিভি দেখে ইতিমধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করলেও মূল অভিযুক্ত সুবীর ঘোষ এখনো অধরা। এলাকায় তৈরি হয়েছে আতঙ্কের পরিবেশ। স্থানীয়রা চাইছেন দোষীদের কঠোর শাস্তি হোক।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles