তিনি নাকি বেঁচে নেই। এমন খবরেই উত্তাল হয়ে উঠেছিল গোটা বিশ্ব। সেই সব জল্পনা-কল্পনা আর গুজবকে নিজের নিজস্ব ভঙ্গিতে উড়িয়ে দিয়ে এবার প্রকাশ্যে এলেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন। ১লা মে দেশের একট সার কারখানার উদ্বোধনে অংশ নিয়েছেন তিনি বলে জানিয়েছে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম কেসিএনএ।
কেসিএনএ জানিয়েছে, কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতিতে ওই সার কারখানা উদ্বোধন করেন কিম জং উন। অনুষ্ঠানে তাঁকে সশরীরে হাজির হতে দেখে উপস্থিত জনতা উল্লাসে ফেটে পড়ে। শনিবার উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যম স্বৈরাচারী রাষ্ট্রপ্রধানের বেশ কিছু ছবিও প্রকাশ করে। প্রায় ২০ দিন পর জনসম্মুখে ফিরলেন কিম।
সরকারি সংবাদমাধ্যমের দাবি, শুক্রবার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের কাছে সুনচন এলাকার একটি সারের কারখানা উদ্বোধন করতে যান কিম জং উন। ফিতে কেটে কারখানার উদ্বোধনের পাশাপাশি যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে খোঁজখবরও নেন কিম। সেসময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রশাসনের কিছু শীর্ষস্থানীয় কর্তা এবং বোন কিম ইয় জং। অনুষ্ঠানে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, “আজ আমার ঠাকুরদা এবং বাবা বেঁচে থাকলে আধুনিক সারের কারখানা দেখে অত্যন্ত খুশি হতেন।”
গত ১২ই এপ্রিলের পর এই প্রথম জনসমক্ষে এলেন কিম। এপ্রিলের ১৫ তারিখ উত্তর কোরিয়ার স্থপতি তথা কিমের ঠাকুরদা কিম ইল সাংয়ের জন্মদিনের আয়োজনে তার অনুপস্থিতি জনমনে প্রশ্নের জন্ম দেয়। কয়েকটি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে কিমের অসুস্থতার খবর আসে। তার মধ্যেই জানা যায় চীন কিমের স্বাস্থ্যগত অবস্থা পরীক্ষা করতে একটি মেডিকেল টিম উত্তর কোরিয়ায় পাঠিয়েছে।
কয়েকদিনের মধ্যেই হংকং স্যাটেলাইট টেলিভিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, কিমের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর ছবিও প্রকাশ করে তাঁরা। পরিস্থিতি এমনই পর্যায়ে পৌঁছায় যে, কিমের মৃত্যুর পর রাষ্ট্রের দায়িত্বে তার বোন ইয়ো-জং আসছেন বলেও খবর প্রচার হতে থাকে। যদিও এতোসব গুঞ্জনের বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কিছুই বলছিল না। উল্টে উত্তর কোরিয়ার উন্নয়নের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের উদ্দেশে কিম একটি চিঠি লিখেছেন বলে দাবি করা হয়।
এদিকে, দক্ষিণ কোরিয়া শুরু থেকেই কিমের অসুস্থতা এবং মৃত্যুর খবর ভিত্তিহীন বলে দাবি অরে আসছিল। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের একজন নিরাপত্তা উপদেষ্টা কিমের সুস্থতা ও বেঁচে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর মাঝেই গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও সংবাদ মাধ্যমের সামনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রও কিম জং উনের কোনো হদিস পাচ্ছে না। তার ওই মন্তব্যের পরেই উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে সার কারখানার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কিমের উপস্থিতির খবর জানানো হলো।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার