Struggling girl : চাকরি পেলেও মনের শান্তি মেলেনি! পরিবারের হাল ধরতে রাস্তায় নামলেন বিটেক পড়ুয়া সুস্মিতা

যত কঠিন সময় আসুক না কেন, কেউ যদি সত্যিই চায়, তাহলে সাফল্য একদিন ধরা দিতেই বাধ্য। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে, যেখানে তরুণ-তরুণীরা শুধুমাত্র চাকরির পিছনে ছুটতে ছুটতে ক্লান্ত, সেখানে কিছু যুবক-যুবতী নিজেদের দক্ষতা ও চেষ্টায় তৈরি করছেন নতুন পথ। কেউ কোডিং করছেন, কেউ আবার কফির দোকান খুলছেন—স্বপ্ন আর সাধনার মেলবন্ধনেই জন্ম নিচ্ছে এক একটি সফল গল্প।

কলেজ, পড়াশোনা, সংসার, দায়িত্ব—সব কিছুর ভার সামলে একজন মেয়ে যখন রাস্তায় দাঁড়িয়ে আখের রস বিক্রি করেন, তখন সেটা নিছক পেশা নয়, এক সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। এমনই এক তরুণীর নাম সুস্মিতা বড়াল। পড়াশোনা করছেন কম্পিউটার সায়েন্সে, সেই সঙ্গে হাওড়ার ডুমুরজোলা স্টেডিয়ামের পিছনের রাস্তায় ছোট্ট দোকান খুলে বিক্রি করছেন একেবারে খাঁটি আখের রস। তবে এখানে গল্পটা শুধুমাত্র রসের নয়, গল্পটা এক ইচ্ছাশক্তির, এক উদ্যমের, যা আজ হাজারো ছাত্র-ছাত্রীকে অনুপ্রাণিত করতে পারে।

সুস্মিতা জানান, ডিপ্লোমা করার পর একটা চাকরি পেয়েছিলেন বটে, কিন্তু তাতে মন ভরেনি। বরং তখনই ভাবেন, বিটেকের সঙ্গে সঙ্গে কিছু নিজস্ব কিছু করা দরকার। তখনই মাথায় আসে আখের রসের ব্যবসার কথা। যদিও শুরুটা সহজ ছিল না। প্রথমদিকে সাড়া পাননি, লাভও ছিল খুব কম। কিন্তু থেমে যাননি। সকাল সকাল রওনা দিয়ে, প্রায় দু’ঘণ্টার সাইকেল জার্নি করে পৌঁছন নিজের দোকানে। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে তাঁর স্টল। পড়াশোনা, দোকানদারি সব মিলিয়েই কাটছে ব্যস্ত জীবন।

সুস্মিতার দোকানের সবচেয়ে বড় ইউএসপি হল হাইজিন। কোনও জল মেশানো নয়, একেবারে খাঁটি আখের রসই পান ক্রেতারা। সুস্মিতা ও তাঁর পরিবার নিজেরাই বানিয়েছেন দোকানের ব্যানার, যেখানে লেখা—“আখের রস খেলে কী কী উপকার হবে।” বিভিন্ন ওয়েবসাইট ঘেঁটে বানানো সেই ব্যানার মানুষকে আকৃষ্ট করছে। স্থানীয়রাও বলছেন, এত পরিচ্ছন্নভাবে আখের রস কেউ বিক্রি করে না। তাই সুস্মিতার দোকানে ভিড় বেশি। আর তারই ফলশ্রুতি, মাত্র এক বছরের মধ্যেই লাভের মুখ দেখেছেন এই তরুণী।

আরও পড়ুনঃ Weather update : বৃষ্টির পরেই গরমের দাপট! তিন থেকে পাঁচ ডিগ্রি তাপমাত্রা বাড়ার পূর্বাভাস দিল হাওয়া অফিস

দোকান সামলে সন্ধ্যায় ফেরেন বাড়ি, তারপর চলে পড়াশোনা। রাতেও বসেন পরের দিনের প্রস্তুতিতে। সুস্মিতা জানাচ্ছেন, বড় ব্যবসা খুলতে টাকা লাগে অনেক, তাই আপাতত ছোট থেকেই শুরু করেছেন। তবে লক্ষ্য একটাই—নিজের স্টার্টআপকে একদিন বড় রূপ দেওয়া। তাঁর মতে, অন্যের অধীনে কাজ না করে নিজের কিছু শুরু করাই বেশি সম্মানের। আর এই লড়াইতেই আজ সুস্মিতা হয়ে উঠেছেন হাওড়ার নতুন অনুপ্রেরণা।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর