মা আবার নতুন করে জীবন শুরু করেছিলেন, আর ছেলে গড়ে তুলছিল নিজের পৃথিবী। একদিকে সংসারের নতুন সূর্যোদয়, অন্যদিকে হঠাৎ অন্ধকারে তলিয়ে যাওয়া এক তরুণ প্রাণ। আজকাল পরিবার মানেই নিছক সামাজিক কাঠামো নয়, বরং অনেক বেশি আবেগ, সম্পর্কের জটিলতা আর জীবনের আপস-রফার গল্প। ঠিক সেই জায়গা থেকেই চোখের সামনে ভেসে উঠছে এক মা আর ছেলের জীবনযাত্রার ছায়াচিত্র।
রিঙ্কু মজুমদার যখন নতুন জীবন বেছে নিলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের সঙ্গে, তখন তাঁর একমাত্র ছেলে সৃঞ্জয় দাশগুপ্ত নিজেকে সরিয়ে নিলেন তাঁদের সংসার থেকে। কিন্তু আলাদা থাকলেও সম্পর্কের তিক্ততা কোথাও প্রকাশ পায়নি। বরং মাসখানেক আগেই রিঙ্কুর বিয়ের সময় সামনে এসেছিল ছেলের সৌহার্দ্যপূর্ণ বার্তা—তিনি খুশি, তবে ছুটি ও ট্রিপের জন্য থাকতে পারছেন না।
বাড়ির বাইরে যেমন আনন্দের আবহ, তেমনই নিউটাউনের সাপুরজি আবাসনে নেমে এল শোকের ছায়া। জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে তাঁর ফ্ল্যাট থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় সৃঞ্জয়ের। বছর ছাব্বিশের তরুণটি একটি তথ্য প্রযুক্তি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। ওই আবাসনেই একাই থাকতেন তিনি। প্রতিবেশীরা দেহ দেখতে পেয়ে খবর দেন।
তড়িঘড়ি তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় বিধাননগর সেবা হাসপাতালে। কিন্তু চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, আত্মহত্যা করেছেন সৃঞ্জয়। তবে এখনও নিশ্চিত নয় পুলিশ। ঘরে কোনও সুইসাইড নোট মেলেনি। কেবল ঝুলন্ত দেহ পাওয়া গেছে বলেই প্রাথমিক অনুমান করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Pahalgam terror attack : সোপিয়ানে ফের জঙ্গি তৎপরতা! পহেলগাঁও হামলার ৩ পাক আততায়ীর ছবি নিয়ে তল্লাশি অভিযান জারি!
তাঁর মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা জানতে ময়নাতদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই সৃঞ্জয়ের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী তদন্ত এগোবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। রহস্যের জট ছাড়াতে এই রিপোর্টই এখন ভরসা।






