বিগত কয়েক বছরে সাধারণ মানুষের জীবনে শান্তির চেয়ে উৎকণ্ঠা যেন বেশি জায়গা করে নিচ্ছে। সকালবেলা খবরের কাগজ খুললেই দেখা যায় কোথাও না কোথাও সন্ত্রাসবাদী হামলার ঘটনা। বিশেষ করে কাশ্মীর উপত্যকা তো বারবার রক্তাক্ত হয়েছে নিরাপরাধ নাগরিক ও নিরাপত্তারক্ষীদের প্রাণ দিয়ে। এই পরিস্থিতিতে জনগণের মনেও প্রশ্ন উঠছে—এই ভয়াবহতা কবে থামবে?
দেশের নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের ভূমিকা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠছে, তেমনই প্রত্যাশাও তৈরি হচ্ছে—ভারত কি আন্তর্জাতিক স্তরে যথেষ্ট ভূমিকা নিচ্ছে? সাধারণ নাগরিক এখন শুধু নিত্যদিনের জীবনযাপনের নিশ্চয়তা চায় না, চায় এমন একটি ভবিষ্যৎ যেখানে কোনো ভয় বা আতঙ্ক থাকবে না। ঠিক এই মুহূর্তেই কেন্দ্রীয় সরকার এক বড় পদক্ষেপের দিকে এগোচ্ছে, যা এই পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জানা গিয়েছে, গত দুই বছর ধরে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ এবং ১২৬৭ স্যাংশন কমিটির পর্যবেক্ষণ দলের সঙ্গে নিয়মিত তথ্য বিনিময় করা হচ্ছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়ে দিয়েছেন যে, পাকিস্তান-সমর্থিত লস্কর-ই-তৈয়বার ছায়া সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (TRF)-এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য তারা একাধিক প্রমাণ জমা দিয়েছে। তবে রাষ্ট্রসঙ্ঘে এই ধরনের সংগঠনকে সন্ত্রাসী ঘোষণার কাজ এত সহজ নয়, কারণ অনেক সময় অন্য দেশগুলির রাজনৈতিক স্বার্থ এতে প্রভাব ফেলে।
ভারত সরকার TRF-কে UAPA অনুযায়ী ইতিমধ্যেই নিষিদ্ধ করেছে এবং এবার রাষ্ট্রসঙ্ঘেও সেই তালিকাভুক্তির চেষ্টা চলছে। তবে এই প্রক্রিয়ায় চীন একাধিকবার বাধা দিয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে। চীন এই সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব রাষ্ট্রসঙ্ঘে আটকে দিচ্ছে, যা কার্যত পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদের প্রচ্ছন্ন সমর্থন বলে মনে করছে ভারত। TRF মূলত কাশ্মীরে যুবকদের সন্ত্রাসে প্ররোচিত করে, অস্ত্র পাচার ও নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলায় যুক্ত।
আরও পড়ুনঃ NIA : ১০ লক্ষ টাকার মাথা কাশ্মীর ধরা পড়তেই তপ্ত সীমান্ত, নেপাল ঘিরে জোরদার সতর্কতা ভারতের!
রণধীর জয়সওয়ালের কথায় স্পষ্ট, রাষ্ট্রসঙ্ঘকে এবার কড়া বার্তা দিতে চলেছে ভারত। TRF-কে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দিলে তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও সম্পত্তি জব্দের পথ খুলে যাবে। এখন দেখার, রাষ্ট্রসঙ্ঘ ভারতের এই প্রস্তাবকে কতটা গুরুত্ব দেয়। তবে ভারতের এই পদক্ষেপ যে আন্তর্জাতিক মহলে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী বার্তা পৌঁছে দেবে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।






