কখনও রাতভর বাঙ্কারে লুকিয়ে থাকা, কখনও দিনের আলো ফোটার আগেই প্রাণ হাতে করে ঘর ফাঁকা করে পালানো — সীমান্তবর্তী জম্মুর বহু গ্রামবাসীর এখনকার দিনযাপন যেন কোনও যুদ্ধবিধ্বস্ত ছবির কোলাজ। চারপাশে শেল পড়েছে, ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, স্কুল-কলেজ বন্ধ। যুদ্ধ নয়, তবু আতঙ্কে প্রহর গোনা যেন প্রতিদিনের অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁদের কাছে।
সাম্বা, আর এস পুরা, আখনুর, আরনিয়ার মানুষজন এখনও ঘরছাড়া। কেউ কেউ পশুপালনের জন্য দিনের বেলা ফিরলেও, সূর্য ডোবার আগেই ফিরে যাচ্ছেন নিরাপদ স্থানে। আতঙ্ক এখনও কাটেনি জম্মু-কাশ্মীরের সীমান্ত ঘেঁষা এলাকাগুলিতে। এক বাসিন্দা জানালেন, “ভগবানের কৃপায় বড় ক্ষতি হয়নি। একটা বড় গোলা বাড়ির পিছনে পড়েছিল। বাঙ্কারে না থাকলে হয়তো আজ আর বেঁচে থাকতাম না।”
একদিকে যখন সংঘর্ষ থেমেছে, তেমনই অন্যদিকে প্রশ্ন উঠছে গোটা ‘প্রত্যাঘাত’-এর বাস্তবতা নিয়ে। দেশের ভিতরে যখন সেনার সাহসিকতা নিয়ে প্রশংসার বন্যা, তখনই এক সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর শোনা গেল তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়ের কণ্ঠে। তাঁর বক্তব্যে তীব্রভাবে উঠে এসেছে মোদি সরকারের প্রতি অবিশ্বাস ও সন্দেহ।
সাংসদ সৌগত রায় সাফ বলছেন, “কোনও যুদ্ধই হয়নি। ব্যাপারটা প্রায় হাস্যকর। দু-একটা মিসাইল এদিক-ওদিক গিয়েছে। কোথায় জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস হল? কই, তার কোনও প্রমাণ তো নেই! কেন্দ্র সরকার যদি সত্যিই কিছু করে থাকে, তাহলে তা মানুষের সামনে আনা হোক।” তাঁর দাবি, সরকারের দেখানো ছবি অনুযায়ী, যেখানে মিসাইল আঘাত করেছে তা এক ভাঙা বাড়ি ছাড়া কিছু নয়।
আরও পড়ুনঃ TMC : চাকরির নামে টাকার অভিযোগ, সিবিআইয়ের তল্লাশির পর প্রয়াত হলেন তৃণমূল বিধায়ক তাপস সাহা!
সব শেষে সৌগত রায়ের কটাক্ষ — “পাকিস্তানের মতো একটা দেশকে শিক্ষা দিতে পারল না এই সরকার। সেনার বীরত্ব নয়, বরং সরকার নিজেই প্রমাণ দিতে ব্যর্থ।” মোদি সরকারকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি বলেন, যদি সত্যিই জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস হয়েছে, পাকিস্তানের অস্ত্রভাণ্ডারে আঘাত হানা গেছে, তবে তার সঠিক ও স্পষ্ট প্রমাণ সামনে আনা হোক। তাঁর মতে, শুধু প্রচার নয়, জনগণকে বাস্তব তথ্য জানানো সরকারের কর্তব্য।






