স্কুল মানেই নিরাপত্তা, শিক্ষা আর শৃঙ্খলার জায়গা। শিক্ষক-শিক্ষিকারা শুধুই পাঠ্য বইয়ের জ্ঞান দেন না, দেন নীতিশিক্ষা, ভবিষ্যৎ গড়ার প্রেরণা। কিন্তু যদি সেই শিক্ষিকার হাতেই নষ্ট হয়ে যায় একজন ছাত্রের মানসিক স্থিতি? সমাজ তখন হতচকিত হয়, প্রশ্ন তোলে—শিক্ষার মন্দিরেই কি আজ নিরাপত্তাহীনতার কালো ছায়া নেমে এল?
১১ বছর বয়সী এক ছাত্রের সঙ্গে দিনের পর দিন অশালীন আচরণ করেছেন তারই এক শিক্ষিকা, এমন অভিযোগ সামনে আসতেই চমকে যায় সকলে। ছাত্রের পরিবার জানায়, ক্লাস শেষে অন্যান্য ছাত্রদের ছেড়ে দিয়ে ছেলেটিকে একা ক্লাসরুমে আটকে রাখতেন ওই শিক্ষিকা। এরপর জোর করে তাঁর স্তন স্পর্শ করতে বলতেন, ঠোঁটে চুমু খাওয়ার জন্য চাপ দিতেন। এমনকি ছাত্রের যৌনাঙ্গেও হাত দিতেন বলে অভিযোগ।
ছাত্রের ফোন ঘেঁটে তার মা জানতে পারেন, শিক্ষিকা প্রায় প্রতিদিন তাকে নগ্ন ছবি পাঠাতেন। শুধু তাই নয়, ছেলেটিকেও নগ্ন ছবি পাঠাতে বাধ্য করতেন। রাত হলেই শুরু হত অশ্লীল বার্তা পাঠানোর পর্ব। দিনের পর দিন চলে এই মানসিক নিপীড়ন। এই ভয়ংকর তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই সমাজে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
অ্যানা প্লাকসিউক নামের ওই শিক্ষিকা পুলিশের কাছে দাবি করেন, ছাত্রই নাকি তাঁকে উত্যক্ত করত। তার চাপেই নাকি তাঁদের মধ্যে কথোপকথন শুরু হয়েছিল। তবে তদন্তে উঠে আসে একের পর এক ভয়ঙ্কর তথ্য। শিক্ষিকার বিরুদ্ধে জমা পড়ে স্পষ্ট প্রমাণ। শেষপর্যন্ত সত্যি আর মিথ্যার পার্থক্য নির্ধারণ করে আদালত।
আরও পড়ুনঃ Breaking : টলি অভিনেত্রী নুসরাত আচমকাই গ্রেফতার! খুনের অভিযোগে গোপনে নিয়ে যাওয়া হলো গোয়েন্দা দপ্তরে!
অবশেষে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গের টকসভো শহরের আদালতে রায় ঘোষণা হয়। ২৭ বছরের বিবাহিত শিক্ষিকা অ্যানা প্লাকসিউককে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এক নাবালক ছাত্রকে দিনের পর দিন যৌন হেনস্থা করার অপরাধে। আদালত তাঁকে ৯ বছরের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। ঘটনাটি সামনে আসতেই অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে—তাঁদের সন্তানরা আদৌ কি নিরাপদ স্কুলের চার দেওয়ালে?






