যেখানেই থাকুন না কেন, দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ কখনও ফিকে হয় না। আর সেই অনুভূতিকেই আরও শক্তিশালী করে তুললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। টোকিওয় প্রবাসী ভারতীয়দের উদ্দেশ্যে তাঁর বক্তব্যে উঠে এল দেশপ্রেম, আত্মবিশ্বাস এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের অবস্থানকে তুলে ধরার স্পষ্ট আহ্বান। সন্ত্রাসবাদ ও পাকিস্তান প্রসঙ্গে তাঁর বার্তা শুধু কূটনৈতিক নয়, ছিল আবেগঘন এবং দৃঢ়চেতা।
বর্তমান বিশ্বে যেখানে ডিজিটাল মাধ্যমই সবচেয়ে বড় শক্তি, সেখানে দেশের সুনাম রক্ষা ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করতে প্রবাসী ভারতীয়দের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান অভিষেক। তাঁর মতে, ভারতীয়রা শুধু দেশের নাগরিক নন, তাঁরা হলেন ভারতের বার্তাবাহক। সামাজিক মাধ্যমে ভারতের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া, প্রমাণ সহ পাকিস্তানের ভূমিকাকে সামনে আনা এবং বিশ্বের নানা প্রান্তের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ—এই ছিল তাঁর নির্দেশের মূল মন্ত্র।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্যে সরাসরি পাকিস্তানের সমালোচনা করেন। তিনি পাকিস্তানকে ‘সন্ত্রাসের বুনো নিয়ন্ত্রক’ বলে আখ্যা দেন এবং TRF (The Resistance Front)-এর মতো সংগঠনের মদতদাতারূপে পাকিস্তানের ভূমিকা তুলে ধরেন। পহেলগামের সাম্প্রতিক হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই হামলার দায় TRF নিয়েছে, যাদের পিছনে পাক সেনার প্রত্যক্ষ সহায়তা রয়েছে। লস্কর-ই-তইবার জড়িত থাকার প্রমাণ, মৃত জঙ্গিদের সঙ্গে পাক সেনার যোগাযোগ—সবকিছুই জনসমক্ষে রয়েছে।
রাজনৈতিকভাবে বিরোধী দলে থাকলেও সন্ত্রাস ও পাকিস্তানের প্রসঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠ ছিল রাষ্ট্রচিন্তায় দৃঢ়। তাঁর কথায়, “পাকিস্তানের সঙ্গে সেই ভাষাতেই কথা বলা উচিত, যা ওরা বোঝে।” তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসবাদ এখন আর কোনও দেশের একার সমস্যা নয়—এটি একটি বৈশ্বিক সংকট। তাই পাকিস্তানকে কূটনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার জন্য বিশ্বজনীন প্রচার শুরু করার আহ্বান জানান তিনি।
আরও পড়ুনঃ Weather update : তপ্ত গরমে স্বস্তির বার্তা! আগামী সপ্তাহে দক্ষিণবঙ্গে ঝড়-বৃষ্টির জোরালো সম্ভাবনা!
অবশেষে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠে শোনা গেল জাতীয় গর্বের বার্তা। তিনি বলেন, “আপনারা যেখানেই থাকুন, ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন। আপনাদের দায়িত্ব ভারতের কণ্ঠস্বরকে আরও শক্তিশালী করে তোলা।” প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তাঁরা যেন নিজেদের ভারতীয় মূল্যবোধ, সংস্কৃতি ও কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে গর্বিত হন। কারণ, তাঁদের মাধ্যমেই আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠতে পারে।






