একটা সময় ছিল যখন পরিবারে প্রথম চাকরি পাওয়া ছেলে বা মেয়েটিকে দেখে গর্বে চোখ ভিজে যেত মা-বাবার। পরিণতি কী হবে জানতেন না, কিন্তু চাকরি মানেই তখন ছিল সুরক্ষা, আত্মমর্যাদা আর নিশ্চিন্ত ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি। অথচ আজ, সেই সরকারি চাকরির স্বপ্নপূরণের পরেও রাতের ঘুম হারাম করতে হচ্ছে হাজার হাজার যুবক-যুবতীকে। ২০১৬ সালের এসএসসি (SSC) পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকরা আজ রাস্তায়। নিখুঁত প্রশ্নোত্তরের বদলে তাঁদের কাছে এখন একটাই প্রশ্ন—‘আমরা কি ফের ফিরে পাব আমাদের চাকরি?’
শুধু নিজের জন্য নয়, পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে গিয়েই বহু চাকরিপ্রার্থীর স্বপ্ন আজ ধূলিসাৎ। কেউ বৃদ্ধ বাবা-মার চিকিৎসা করাতে পারছেন না, কেউ সন্তানকে পড়াতে পারছেন না। সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশে চাকরি খারিজ হওয়ার পর থেকেই প্রতিবাদের পথেই হাঁটছেন এসএসসি-নিযুক্ত চাকরিহারারা। কিন্তু ক্রমশ আন্দোলনের পরিধি বাড়লেও এখনও পর্যন্ত সুরাহার কোনও পথ খুঁজে পাননি তাঁরা। এরই মধ্যে আইনজীবীর মুখে যে সত্য তাঁরা শুনলেন, তা যেন আরও একবার ভেঙে দিল তাঁদের ভরসার কাঠামো।
শনিবার সকালে আন্দোলনকারী চাকরিহারাদের একাংশ দেখা করেন বর্ষীয়ান আইনজীবী এবং সিপিএম নেতা বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের (Bikash Ranjan Bhattacharya) সঙ্গে। আশা ছিল, হয়তো আইনি দিক থেকে কোনও সহানুভূতি পাওয়া যাবে। কিন্তু বিকাশবাবুর বক্তব্য শুনে হতবাক তাঁরা। আইনজীবীর সাফ কথা, “আপনারা কেউ চাকরি ফিরে পাবেন না। নতুন করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিন।” এমনকি তিনি আরও জানান, ৭,২৫০ জন অযোগ্য বলে যে তালিকা রয়েছে, তার সংখ্যাও সঠিক নয়। আরও অনেকের নাম রয়েছে সেই তালিকায়। আন্দোলন যতই হোক, আইনের দৃষ্টিতে এই নিয়োগ বাতিল বলে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন।
এই পরিস্থিতিতে হাল ছাড়েননি চাকরিহারারা। আন্দোলনকারীদের ১০ জনের একটি প্রতিনিধি দল দেখা করেছিলেন বিকাশ ভট্টাচার্যের সঙ্গে। যদিও সেখান থেকে আশার আলো মেলেনি, তবু তাঁরা এবার সাংসদদের দ্বারস্থ হতে চলেছেন। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, সমস্ত সাংসদদের কাছে চিঠি পাঠাবেন তাঁরা, যাতে সংসদে এই ইস্যু তোলা হয়। পাশাপাশি, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন। আগামী সোমবারের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া না এলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা।
আরও পড়ুনঃ Karnataka : গণধর্ষণে অভিযুক্তদের ডিজে-সহ বিজয়ের শোভাযাত্রা! ভিডিও ভাইরাল হতেই ফের গ্রেফতার! চাঞ্চল্য কর্নাটকে
আন্দোলনকারীদের একাংশ জানিয়েছেন, বিকাশ ভবনের সামনের অবস্থান তুলে নিলেও তাঁদের লড়াই চলবে। তবে বিকাশ রঞ্জনের স্পষ্ট কথা শুনে কেউ কেউ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। কারণ একটাই—এই বক্তব্য যে আন্দোলনের ভবিষ্যতের উপর জল ঢেলে দিল অনেকটাই। রিভিউ পিটিশনও ফল দেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন আইনজীবী। ফলে আন্দোলনের ভবিষ্যৎ এখন আরও অনিশ্চিত, আর হাজার হাজার যুবক-যুবতীর স্বপ্নও যেন ক্রমশ ম্লান হয়ে আসছে।






