DA: বছরের পর বছর প্রাপ্য কি এবার মিলবে? DA নিয়ে সুপ্রিম রায়ের পর জোরদার প্রস্তুতি রাজ্যের!

২০১৯ সালের পর থেকে বহু সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীর মনে জমে রয়েছে একটাই প্রশ্ন—“আমাদের বকেয়া ডিএ (DA) কবে মিলবে?” মাসের পর মাস, বছরের পর বছর কেটে গিয়েছে, তবুও সেই পাওনা যেন অধরাই থেকে গিয়েছে। কেউ অবসর নিয়ে বসে আছেন, কেউ আবার এখনও কাজ করছেন দিনের পর দিন, কিন্তু যে ন্যায্য পাওনা, তা মিলছে না বলে একরাশ ক্ষোভ জমে রয়েছে সরকারি কর্মীদের মনে। অনেকেই বলছেন, বাজারদর বাড়ছে, কিন্তু মহার্ঘ ভাতা না বাড়ায় পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

চাকরি জীবনে নিশ্চয়তা পাওয়ার স্বপ্ন নিয়েই সরকারি কাজে যোগ দেন বহু মানুষ। কিন্তু যখন বারবার দাবি সত্ত্বেও প্রাপ্য অর্থ মেলে না, তখন হতাশা গ্রাস করে সাধারণ কর্মচারীদের। মহার্ঘ ভাতা মানে শুধু একটি সংযোজন নয়, বরং তা জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মৌলিক প্রয়োজনের খরচ মেটানোর অন্যতম ভরসা। ফলে সেই পাওনার দিক থেকে এতদিন যে অনিশ্চয়তা ছিল, তা একদিকে যেমন ক্ষোভের, তেমনই হতাশারও জন্ম দিয়েছে।

১৬ মে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, রাজ্য সরকারকে অন্তত ২৫ শতাংশ বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দিতে হবে এবং ছ’ সপ্তাহের মধ্যে সেই টাকা কর্মীদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছনো উচিত। এই নির্দেশের প্রেক্ষিতে রাজ্য প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে বলেই সূত্র মারফত জানা গিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি না হলেও প্রশাসনিক মহল সূত্রে খবর, কতজন কর্মী বকেয়া পাবেন, কার কত টাকা বাকি, সেই হিসেব শুরু হয়ে গিয়েছে নবান্নে।

রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মী, শিক্ষক, পঞ্চায়েত ও পুরসভা মিলিয়ে প্রায় ৮ লক্ষের বেশি চাকরিজীবী এবং আরও ২ লক্ষের বেশি অবসরপ্রাপ্ত কর্মী এই বকেয়ার আওতায় পড়ছেন। ফলে প্রশাসনের কাজ সহজ নয়। প্রতিটি কর্মীর চাকরির সময়কাল, পদোন্নতি, বেতন কাঠামো, রোপা (ROPA) ২০০৯-এর আওতায় পড়া না-পড়ার হিসেব ইত্যাদি নির্ধারণ করা হচ্ছে। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, ২০০৮-এর ১ আগস্ট থেকে ২০১৯-এর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে চাকরিতে যাঁরা ছিলেন, তাঁরাই এই ডিএ-র আওতায় আসবেন। সেই অনুযায়ী ১৪১ মাসের বকেয়ার হিসেব তৈরি হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ SSC : ‘টেন্টেড’ তবু লড়াই জারি, বেতন রক্ষা করতে এবার শিক্ষকদের পাশে রাজ্য সরকার!

সরকারি হিসাবে এই দীর্ঘ সময়ের বকেয়া ডিএ পুরোপুরি মেটাতে গেলে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। সুপ্রিম কোর্ট অন্তর্বর্তীকালীন রায়ে যে ২৫ শতাংশ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে, তার জন্য আপাতত লাগবে অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকা। এক্ষেত্রে রাজ্যের কাছে রিভিউ পিটিশনের সুযোগও নেই, ফলে প্রস্তুতি না নিয়ে উপায় নেই প্রশাসনের। সেই কারণে এখনই কর্মীসংখ্যা, দপ্তর অনুযায়ী বিভাজন, অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত কর্মীদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ শুরু করে দিয়েছে রাজ্য সরকার। সব দিক মিলিয়ে বোঝা যাচ্ছে, এবার হয়তো সত্যিই বকেয়া ডিএ পাওয়ার সম্ভাবনায় কিছুটা আশার আলো দেখা যাচ্ছে চাকরিজীবীদের জীবনে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর