বীরভূমের রাজনীতি যেন উত্তাল সমুদ্র। ভাইরাল অডিয়ো কাণ্ড ঘিরে তোলপাড় অনুব্রত শিবির। একদিকে তিনি আপাতত বেড রেস্টে, অন্যদিকে তাঁর পুরনো সঙ্গী কাজল শেখ পালটা শক্তি প্রদর্শন করে মিছিল করে ফেলেছেন মঙ্গলবার বিকেলেই। দুই মেরুতে দাঁড়িয়ে দুই প্রভাবশালী নেতা। ঠিক এমন সময়েই এল চমক। সাঁইথিয়া বিধানসভার মাঠপলসা অঞ্চলের এক গ্রামে দেখা গেল রীতিমতো রক্তক্ষয় তৃণমূল শিবিরে।
জানা গিয়েছে, কুনিরী গ্রামে মঙ্গলবার রাতারাতি পালটে গেল রাজনৈতিক সমীকরণ। প্রায় ১৫০টি পরিবার তৃণমূল ছেড়ে এবার গেরুয়া শিবিরে নাম লেখালেন। সিউড়ি বিজেপি জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে হাতে বিজেপির পতাকা তুলে দেন বীরভূমের বিজেপি সংগঠনিক জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা। উপস্থিত ছিলেন বিজেপির অন্যান্য নেতারাও। হঠাৎ এই দলবদলে কৌতূহল তুঙ্গে রাজনৈতিক মহলে।
এই দলবদলের পর অনেকেরই মুখে উঠে এসেছে ‘বিবেক’ শব্দটি। বিজেপিতে যোগদান করে অচিন্ত্য দাস ও গিরিধারী সরকারের মত একাধিক নবাগত বিজেপি কর্মী দাবি করেছেন, “বর্তমানে বাংলার যা পরিস্থিতি, তাতে বিবেক থাকলে কেউ তৃণমূল করতে পারবেন না। এটা ঘর ওয়াপসি।” অনেকেই জানান, আগে তাঁরা বিজেপিতেই ছিলেন। ভুল করে তৃণমূলে গিয়েছিলেন। এখন সেই ভুল শুধরে ফিরেছেন পুরনো দলে।
যদিও তৃণমূল শিবির থেকে এখনও এই দলবদল নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য আসেনি, তবে জেলার অভ্যন্তরে চাপা উত্তেজনা রয়েছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ভাইরাল অডিও, অনুব্রতের অসুস্থতা, আর তার মাঝেই কাজলের শক্তিপ্রদর্শনের সঙ্গে বিজেপির পাল্টা ধাক্কা—সব মিলিয়ে তৃণমূলের ভিত কিছুটা হলেও নড়ে গিয়েছে বলেই অনেকে মনে করছেন।
আরও পড়ুনঃ JU : যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউনিয়ন রুমে হামলা, তদন্তের জন্য বিশেষ কমিটি গঠন!
আগামী দিনে পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচন। তার আগে বীরভূমে এই ধরনের দলবদল নিঃসন্দেহে বড় ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিজেপি বলছে, এটা সবে শুরু। তৃণমূলের একাংশ অবশ্য মনে করছে, দলবদল হলেও ভোটে প্রভাব ফেলবে না বেশি। কিন্তু ১৫০টি পরিবারের একসঙ্গে দলত্যাগ নিঃসন্দেহে চাপে ফেলেছে তৃণমূলকে। এখন দেখার, এই প্রবাহ ধরে রাখতে পারে কিনা বিজেপি।






