জম্মু-কাশ্মীরের আকাশ জুড়ে এখন নতুন স্বপ্নের ছোঁয়া। রেললাইন থেকে পর্যটন, উন্নয়নের গতি আরও বাড়াতে কোমর বেঁধে নেমেছে কেন্দ্র। এর মধ্যেই, কাটরা থেকে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মুখে উঠে এল এক আবেগঘন মন্তব্য— ‘নিজের জীবনের ১১টা বছর ত্যাগ করে দিয়েছি।’ কেন বললেন তিনি এমন কথা? কী বার্তা দিতে চাইলেন দেশের মানুষকে? বক্তব্যের মধ্যে মিলল স্পষ্ট বার্তা— উন্নয়নের রাস্তায় কোনও বাধা মানবেন না তিনি।
কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী— এই সুদীর্ঘ রেল নেটওয়ার্কের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার সাফল্যকেই ভাষণের সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। কাটরা থেকে কাশ্মীরবাসীর উদ্দেশে ভাষণে তিনি জানান, দেশের একতা এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তিই এই অসাধ্য সাধন করেছে। বৈষ্ণো দেবীকে প্রণাম জানিয়ে বক্তব্য শুরু করে মোদী বলেন, ‘আমি দেখেছি আগের সরকার কঠিন কাজগুলো আমার জন্য ফেলে গিয়েছিল। প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নে উপত্যকার পরিবর্তনশীল আবহাওয়া বড় বাধা ছিল। তবুও আমরা সফল হয়েছি।’
চেনাব ও অঞ্জী সেতুর উদাহরণ তুলে ধরে মোদী বলেন, এগুলি ভারতের ইঞ্জিনিয়ারিং দক্ষতার নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। এই সেতুগুলি শুধু রেল যোগাযোগ নয়, কাশ্মীরের বাণিজ্য ও পর্যটনেও গতি আনবে। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘এবার কাশ্মীরের আপেল দেশের একাধিক রাজ্যে আরও সস্তায় পৌঁছবে। জম্মু-কাশ্মীর ভারতের মুকুট, বহু রত্নে গঠিত।’
এরপরই বিরোধীদের প্রতি তীব্র আক্রমণ শানান মোদী। ‘ওরা কারা যারা সমাজ ঠিক করার কথা বলে? ওরা কারা যারা দলিতদের নাম করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটেছে?’ — প্রশ্ন তোলেন তিনি। আরও বলেন, ‘স্বাধীনতার এত বছর পরও যারা প্রাথমিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল, তাদের জন্যই আমি নিজের ১১টা বছর ত্যাগ করেছি। আদিবাসী ও দলিত ভাই-বোনেদের উন্নতির জন্য আমরা কাজ করেছি।’
আরও পড়ুনঃ Covid update : ৬০০০ ছাড়াল করোনা আক্রান্ত, বাংলায় লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ! তৃতীয় স্থানে উঠে এলো রাজ্য!
পহেলগাঁও প্রসঙ্গে এসে আরও কঠোর বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। ‘পাকিস্তানিরা ভারতে সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়াতে চেয়েছিল। কিন্তু কাশ্মীরে এখন উন্নয়ন হচ্ছে, নির্বাচন হচ্ছে। এটা সন্ত্রাসবাদীদের সহ্য হয় না।’ তিনি জানান, এখানকার মানুষ এত হিংসার মুখোমুখি হয়েছেন যে একসময় সন্ত্রাসকেই জীবনের শেষ ধাপ ভাবতে শুরু করেছিলেন। ‘আমি জম্মু-কাশ্মীরকে সেই অবস্থা থেকে বের করে এনেছি। আমি এখানে বিকাশ থামতে দেব না। যুব প্রজন্মের স্বপ্নপূরণের পথে কোনও বাধা এলে আগে তা আমাকে পেরোতে হবে,’— জানান তিনি।






