বিশ্বের দুই শক্তিধর দেশের মধ্যে নতুন করে সম্পর্কের সেতুবন্ধনের ইঙ্গিত মিলছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা শুল্ক-সংক্রান্ত সংঘাত কাটিয়ে অবশেষে আলোচনার পথে হাঁটতে চলেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চিনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প নিজেই চিন সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং শি জিনপিংকেও আমেরিকায় আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আচমকা এই সৌজন্য বিনিময়ের নেপথ্যে কী রয়েছে, তা নিয়ে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।
বৃহস্পতিবার প্রথমবার দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে দীর্ঘ ফোনালাপ হয়েছে। টানা প্রায় ৯০ মিনিট ধরে তাঁদের মধ্যে আলোচনা চলে। এই কথোপকথনের মূল বিষয় ছিল দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি এবং চিনের বিরল খনিজসম্পদ রফতানি নিয়ে চলমান অচলাবস্থা। ট্রাম্প নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ফোনালাপের কথা প্রকাশ্যে আনেন। তিনি জানান, তাঁকে চিন সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং স্ত্রী মেলানিয়াকে সঙ্গে নিয়ে তিনি সেখানে যেতে পারেন। পাশাপাশি শি জিনপিংকেও আমেরিকায় আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প।
এই ইতিবাচক আলোচনা শুরু হলেও এর পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ শুল্ক-সংঘাতের প্রেক্ষাপট। চলতি বছরের ২ এপ্রিল থেকে আমেরিকা চিন থেকে আমদানিকৃত পণ্যের উপর এক ধাক্কায় ৩৪ শতাংশ শুল্ক বসায়। এর পাল্টা হিসেবে চিনও আমেরিকান পণ্যের উপর শুল্ক বাড়িয়ে দেয়। এই প্রতিক্রিয়া-প্রতিবাদের পালায় দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক টানাপড়েন ক্রমশ তীব্র হয়ে ওঠে।
এরপর ট্রাম্প জানান, চিনা পণ্যের উপর আরও ৫০ শতাংশ শুল্ক বাড়ানো হবে। সেইমতো চিনা পণ্যের উপর মোট শুল্কের হার পৌঁছে যায় ৮৪ শতাংশে। পূর্বের ধার্য ২০ শতাংশ শুল্ক মিলিয়ে শুল্কের মোট হার দাঁড়ায় ১০৪ শতাংশে। তবুও এখানেই শেষ হয়নি। একের পর এক দফায় আমেরিকা চিন থেকে আমদানি হওয়া বিভিন্ন সামগ্রীর উপর আরও শুল্ক আরোপ করতে থাকে। শেষপর্যন্ত শুল্কের হার গিয়ে দাঁড়ায় চূড়ান্ত ১৪৫ শতাংশে। এর জেরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কে গভীর টানাপড়েন তৈরি হয়।
আরও পড়ুনঃ Narendra Modi: ‘নিজের জীবনের ১১টা বছর ত্যাগ করেছি…’, কেন কাশ্মীরের মঞ্চে মোদীর এই মন্তব্য? মঞ্চে দাঁড়িয়ে সন্ত্রাসবাদীদের কড়া বার্তা প্রধানমন্ত্রীর!
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতেই ট্রাম্প ও জিনপিংয়ের সাম্প্রতিক ফোনালাপ নতুন করে আলোচনার দ্বার খুলে দিয়েছে। যদিও এই আলোচনার ফলস্বরূপ এখনও কোনও নির্দিষ্ট বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণা করা হয়নি। তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, শি জিনপিং অত্যন্ত কড়া মানুষ, তাঁর সঙ্গে চুক্তি করা সহজ নয়। তা সত্ত্বেও দুই রাষ্ট্রনেতার সৌহার্দ্যপূর্ণ মনোভাব আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনে এই আলোচনাই হয়তো দীর্ঘস্থায়ী বাণিজ্যিক সমঝোতার দিকে পথ দেখাতে পারে।





