যখন কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্ষণের মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে, তখন সাধারণ মানুষ আশা করে দোষীর শাস্তি, দ্রুত তদন্ত ও সুবিচার। কিন্তু কসবার সাউথ ক্যালকাটা ল’কলেজের সাম্প্রতিক ঘটনায় যেন সব কিছু ওলট-পালট হয়ে যাচ্ছে। রাজনীতির মোড়কে ঢাকা পড়ছে নির্যাতিতা ছাত্রীর জন্য লড়াইয়ের কথা। একের পর এক রাজনৈতিক দলের আনাগোনা, পথ অবরোধ, প্রতিবাদ — সব মিলিয়ে কলেজ চত্বর যেন হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ।
সোমবার দুপুরে কসবা ল’কলেজের সামনে হাজির হয় বিজেপির ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম’। ছিলেন দুই প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মীনাক্ষী লেখি ও সত্যপাল সিং, দুই সাংসদ বিপ্লব দেব ও মনন মিশ্র এবং রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার ও মহিলা মোর্চা সভানেত্রী অগ্নিমিত্রা পল। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন বিজেপি ছাত্র মোর্চার একাধিক সদস্য। কিন্তু তাদের আগমনের আগেই কলেজ গেটে জড়ো হয়ে গিয়েছিলেন রাত দখল মঞ্চের সদস্যরাও, নেতৃত্বে রিমঝিম সিংহ। শুরু হয় স্লোগান-পাল্টা স্লোগান, ক্রমে বাড়ে উত্তেজনা।
বিজেপির প্রতিনিধি দল কলেজ চত্বরে প্রবেশের চেষ্টা করতেই বাধা দিতে শুরু করে রাত দখল মঞ্চের সদস্যরা। তাদের দাবি ছিল, রাজনীতির ঢাল ব্যবহার করে কেউ যেন ধর্ষণের ঘটনায় ‘ফুটেজ’ না খায়। পালটা বিজেপি সমর্থকদের দাবি, রিমঝিমরা তৃণমূলের দালাল, যারা মূল ঘটনার তদন্ত নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতিপত্তি কায়েমে আগ্রহী। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, দুই পক্ষ হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। পুলিশি হস্তক্ষেপ না হলে বড় ধরনের সংঘর্ষ ঘটতে পারত বলেই মত স্থানীয়দের।
এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে কাটাছেঁড়া। প্রশ্ন উঠছে, ধর্ষণের মতো লজ্জাজনক ঘটনায় কীভাবে আন্দোলন গৌণ হয়ে পড়ে রাজনৈতিক দলগুলির ক্যামেরার সামনে আসার প্রতিযোগিতায়? সাধারণ মানুষের একাংশের মতে, যে ঘটনায় মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন, সেই ইস্যুকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের প্রচারের হাতিয়ার বানাচ্ছে। যাঁরা নির্যাতিতার পাশে থাকার কথা বলছেন, তাঁদের মধ্যেই কেউ কেউ আসলে ফোকাসের লড়াই করছেন।
আরও পড়ুনঃ New Virus in China: ফের মহামারীর ছায়া! চিনে বাদুড়ে মিলল করোনা থেকেও ২০ গুণ ভয়ংকর নতুন ভাইরাস!
শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন রয়ে যায়—এই কসবা কাণ্ডে আদৌ কি কেউ নির্যাতিত ছাত্রীর পাশে আছে? নাকি আন্দোলনের নামে দখলের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে সব পক্ষ? কলেজের ছাত্রছাত্রী থেকে সাধারণ মানুষ—সবাই বলছেন, বিচার চাই, দোষীদের শাস্তি চাই। কিন্তু রাজনীতি, স্লোগান, এবং ক্যামেরার ফ্রেম দখলের প্রতিযোগিতার মাঝে হারিয়ে যাচ্ছে সেই একটিমাত্র আওয়াজ—‘আমি ন্যায় চাই।’





