West Bengal :নাবালিকাকে ধ*র্ষণ, সিবিআই মামলায় তৃণমূল ঘনিষ্ঠের ফাঁসির বদলে যাবজ্জীবন! একুশের হিংসার প্রথম রায় ঘোষণা!

নির্বাচনের পরে হিংসা কতটা ভয়ানক রূপ নিতে পারে, তার এক জ্বলন্ত প্রমাণ মিলল মালদা জেলা আদালতে। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ঘোষণা হল এমন এক মামলার রায়, যা শুধু বাংলাকে নাড়িয়ে দিয়েছে, প্রশ্ন তুলেছে রাজনীতি আর অপরাধের জটিল যোগসূত্র নিয়েও। এক নাবালিকার উপর পাশবিক নির্যাতন এবং তার সঙ্গে জড়িত এক রাজনীতিক — এই ঘটনা যেন নতুন করে প্রমাণ করে দিল, কতটা গভীরে গিয়েছে হিংসার শিকড়।

২০২১ সালের ৪ জুন ঘটে যাওয়া এই নৃশংস ঘটনাটি ছিল মালদার একটি আমবাগানকে কেন্দ্র করে। সেদিন বাড়ির কাছেই খেলছিল মাত্র ৯ বছর বয়সি একটি তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। সঙ্গে ছিল তার ১১ বছর বয়সি তুতো বোন। সেই আমবাগান ছিল এলাকারই এক প্রভাবশালী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের। তিনি ছিলেন স্থানীয় স্তরে তৃণমূল ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। অভিযোগ অনুযায়ী, সুযোগ বুঝে ওই শিক্ষক নাবালিকাকে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরিবার বিজেপি-সমর্থক হওয়ায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিহিংসার দিকটিও উঠে আসে পরবর্তীতে।

৫ জুন নির্যাতিতার মা স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে শুরু হয় তদন্ত। একুশের ভোটের পরবর্তী হিংসার ঘটনা হিসেবেই এই মামলাকে চিহ্নিত করা হয়। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে। এরপর ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে চার্জশিট পেশ করে সিবিআই। মোট ২২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের পর বিচারক অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেন।

শুক্রবার মালদা জেলা আদালতের দ্বিতীয় অতিরিক্ত বিচারক রাজীব সাহা ৬৬ বছর বয়সি অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে ধার্য হয় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা। অনাদায়ে আরও ছ’মাসের সাজা হবে বলেও জানানো হয়। নির্যাতিতার পরিবারকে রাজ্য সরকারের ফান্ড থেকে তিন লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন বিচারক। সিবিআই-এর আইনজীবী অমিতাভ মৈত্র জানান, একুশের ভোট পরবর্তী ৫৫টি হিংসার মামলার মধ্যে এটিই প্রথম যার রায় ঘোষিত হল।

আরও পড়ুনঃ Narendra Modi : ২১ জুলাইয়ের আগে দমদমে মোদীর সভা? শমীককে সামনে রেখে ভোট যুদ্ধ শুরু বিজেপির!

যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযুক্তের সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই বলেই দাবি করা হয়েছে। মালদা জেলা তৃণমূল মুখপাত্র আশিস কুণ্ডু বলেন, “ওই ব্যক্তি কোনওদিন দলের নেতা ছিলেন না। হয়তো সমর্থক ছিলেন। বিরোধীরা ষড়যন্ত্র করে আমাদের দলকে কালিমালিপ্ত করতে চাইছে।” যদিও আদালতের রায় এবং মামলার বিবরণ বলছে অন্য কথা। বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এই রায় এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলেই মনে করছেন আইনি বিশেষজ্ঞরা।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles