Narendra Modi : ২১ জুলাইয়ের আগে দমদমে মোদীর সভা? শমীককে সামনে রেখে ভোট যুদ্ধ শুরু বিজেপির!

রাজনীতির মঞ্চে ফের চড়তে চলেছে উত্তেজনার পারদ। একদিকে ‘২১ জুলাই’-এর আগে ফের জমজমাট হতে চলেছে রাজ্য রাজনীতি, অন্যদিকে বিজেপির অন্দরে নেতৃত্ব বদলের পরেই সামনে আসছে বড় সিগন্যাল। গুঞ্জন উঠেছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবার সরাসরি বাংলার মাটি থেকেই বাজাতে পারেন ভোট যুদ্ধের দামামা! বিশেষ করে যখন শাসক তৃণমূল তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, তখন বিজেপির দিক থেকেও পাল্টা পদক্ষেপ যে খুব শিগগির, তা বলাই বাহুল্য।

বহু জল্পনার পর বিজেপির রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যকে। সুকান্ত মজুমদার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। শেষমেশ ‘এক ব্যক্তি, এক পদ’ নীতির নিরিখে রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব থেকে সরানো হল সুকান্তকে। শমীককে সভাপতি করে সংগঠনের ভারসাম্য রক্ষা করল বিজেপি। ‘আদি বিজেপি’র প্রতিনিধি হলেও, তিনি সব পক্ষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছেন—এটাই এখন দলের কাছে বড় সম্পদ।

২১ জুলাইয়ের ঠিক আগেই বড়সড় সভার পরিকল্পনা করছে গেরুয়া শিবির। রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী ১৮ জুলাই দমদম সেন্ট্রাল জেলের মাঠে একটি জনসভা করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সূত্র বলছে, সেই সভার প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। রাজ্য বিজেপির তরফে সাত সদস্যের কমিটিও গঠিত হয়েছে ওই সভার জন্য। তৃণমূলের শহিদ দিবসের তিনদিন আগেই মোদীর সভা হলে, তা যে বড় রাজনৈতিক বার্তা দেবে, তা স্পষ্ট।

আগামী বছরের লোকসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক হাওয়া গরম করতে চাইছে দুই দলই। যেখানে ধারণা করা হচ্ছে, ২১ জুলাইয়ের শহিদ মঞ্চ থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটের প্রস্তুতির ডাক দেবেন, সেখানে তার আগেই মোদী সভা করলে, তা হবে বিজেপির কৌশলগত চাল। দলের অন্দরের খবর, এবার বাংলার শহুরে ভোটারদের মন জয় করাই বিজেপির লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যেই শমীককে বেছে নেওয়া, এবং সেই শমীকের পাশে প্রধানমন্ত্রীকে দাঁড় করিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তও তেমনই বার্তাবহ।

বিজেপির লক্ষ্য এবার শহুরে ভোটাররা। শমীক ভট্টাচার্যের গ্রহণযোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলায় সংগঠনকে নতুনভাবে মজবুত করতে চাইছে গেরুয়া শিবির। পাশাপাশি, ‘আদি বনাম নব্য’ বিজেপির সংঘাত থামিয়ে একত্রে ভোটে নামার বার্তা দিতে চায় দল। সেই কারণেই শমীককে সামনে রেখে এবং মোদীকে মঞ্চে এনে রাজনৈতিক ভারসাম্যের দিক থেকেও বিজেপি যে একধাপ এগিয়ে থাকতে চাইছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে প্রতিটি পদক্ষেপেই।

আরও পড়ুনঃ অণ্ডকোষে জীবন, ফিরে পেয়েই বন্ধুর স্ত্রী টুনটুনির সঙ্গে সম্পর্ক! হাতেনাতে ধরা পড়ল জহির

বিশ্লেষকদের মতে, এটি নিছক একটি সভা নয়, বরং রাজ্য রাজনীতিতে বিজেপির রণকৌশলের সূচনা। মমতার আগে মোদী সভা করলে, তা একদিকে যেমন ভোটারের মনে জায়গা করে নেওয়ার চেষ্টার অংশ, তেমনই দলের অভ্যন্তরীণ বার্তাও। এবার দেখা যাক, ১৮ জুলাইয়ের সেই সভা কতটা রং আনতে পারে বিজেপির ভোট ঝুলিতে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles