রাজ্যে শিক্ষা ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে যেভাবে SSC দুর্নীতির অভিযোগ একাধিকবার সামনে এসেছে, তাতে ‘যোগ্য’ আর ‘অযোগ্য’ এই দুটি শব্দ আজ যেন রাজনীতির এক গভীর প্রতীক। চাকরিহারা শিক্ষাকর্মীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও অসন্তোষ ক্রমশই রূপ নিচ্ছে বৃহত্তর আন্দোলনের। আবারও তাঁরা পথে, দাবি— ন্যায় বিচার, স্বীকৃতি এবং পুনর্নিয়োগ। আজ, সোমবার হাওড়া ময়দান থেকে শুরু হবে সেই দাবির পদযাত্রা।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আজ ৮ জুলাই, নবান্নের দিকে রওনা দেবেন চাকরিহারা গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি শিক্ষাকর্মীদের একাংশ। সকাল ১১টা নাগাদ হাওড়া ময়দান মেট্রো চত্বরে জমায়েতের ডাক দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে মন্দিরতলা হয়ে এই মিছিল এগিয়ে যাবে নবান্নের উদ্দেশে। মূল লক্ষ্য, রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক দফতরে চার দফা দাবি তুলে ধরা। তবে আন্দোলনের আগেই প্রশাসন কড়া অবস্থান নিয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ বাহিনী, বসানো হয়েছে ব্যারিকেড। তৈরি রয়েছে আঁটোসাঁটো নিরাপত্তা।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, বারংবার কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেও কোনও সমাধান হয়নি। ফলে এবার আর ধৈর্য না হারিয়ে সরাসরি নবান্ন অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও এই অভিযান হওয়ার কথা ছিল ৩ জুলাই, তবে পুলিশি অনুমতি না মেলায় তা পিছিয়ে আজকের দিনে করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, স্বচ্ছতার ভিত্তিতে যাঁরা চাকরি পেয়েছিলেন সেই ৩ হাজার ৩৯৪ জন চাকরিহারাকে পুনর্বহাল করা হয়নি। তাছাড়া চার মাস ধরে বেতন বন্ধ থাকায় আর্থিক দিক থেকেও তারা বিপর্যস্ত।
দাবি করা হয়েছে, যাঁরা প্রকৃত অর্থেই মেধা ও নিয়ম মেনে চাকরি পেয়েছিলেন, তাঁদের একটি সার্টিফায়েড তালিকা অবিলম্বে প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি ২২ লক্ষ ওএমআর শিট প্রকাশ করা নিয়েও চাপ বাড়ছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, স্বচ্ছতা ও তথ্যপ্রকাশ ছাড়া সঠিক বিচার সম্ভব নয়। অনেকেই কিস্তিতে নেওয়া ঋণের টাকা ফেরত দিতে না পেরে দারুণ চাপে রয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ Dilip Ghosh : “২১ তারিখ নতুন চমক আসবে, সারা বাংলা দেখবে”— খড়্গপুর থেকে ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা দিলেন দিলীপ ঘোষ!
চাকরিহারা শিক্ষাকর্মীদের এই মিছিল ঘিরে প্রশাসনের উদ্বেগ তুঙ্গে। কারণ আগেও একাধিকবার এধরনের অভিযানে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে এবার আন্দোলনকারীরা শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতে দাবি জানাবেন বলেই আশ্বাস দিয়েছেন। এখন দেখার, প্রশাসন কীভাবে এই পরিস্থিতি সামলায় এবং শিক্ষাকর্মীদের চার দফা দাবি আদৌ কোনও সাড়া পায় কি না। রাজ্যের শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত আন্দোলনে আজকের দিন যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তা বলাই বাহুল্য।





