পশ্চিমবঙ্গে এখন শুধু আকাশেই বর্ষা নয়, রাজনীতির আকাশেও চলছে টানা মেঘলা আবহ। বিজেপি-র অন্দরে নানা গুঞ্জন, অভিমান, দূরত্ব—সব মিলিয়ে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে গত কিছুদিনে। এই আবহেই দলীয় ঐক্যের বার্তা কি দিতে চলেছেন দিলীপ ঘোষ? প্রশ্ন আরও ঘনীভূত হয়েছে, যখন জানা গেল, আজ বিকালে দীর্ঘদিন পর সল্টলেকের বিজেপি দফতরে পা রাখতে চলেছেন প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।
আজ বিকালেই বিজেপি রাজ্য দফতরে নবনিযুক্ত রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে সংবর্ধনা জানাতে আসছেন দিলীপ ঘোষ। গত কয়েক মাস ধরেই রাজ্য রাজনীতিতে তাঁকে ঘিরে চলছিল নানা জল্পনা—তিনি কি দলবদল করবেন? বিজেপিতে তাঁর গুরুত্ব কতটা? এর মাঝেই শমীককে শুভেচ্ছা জানাতে নিজেই দলীয় দফতরে হাজির হবেন বলে খবর। অনেকেই মনে করছেন, এই উপস্থিতি থেকেই দলের অন্দরের বরফ গলার ইঙ্গিত মিলছে।
মাত্র দু’দিন আগেই দিলীপ ঘোষ মন্তব্য করেছিলেন, “আমি ডাকলে যাই, না ডাকলে যাই না!” এই বক্তব্যে স্পষ্টই ছিল অভিমানী সুর। বিজেপির নতুন সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে দিলীপের সম্পর্ক নিয়েও শুরু হয়েছিল নানা প্রশ্ন। তবে আজকের সংবর্ধনা পর্বে দিলীপ ঘোষের উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে এক নতুন বার্তা বয়ে আনছে বলেই ধারণা।
দিলীপ ঘোষ আরও এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন, “২১ জুলাইয়ের পর আর কোনও প্রশ্ন থাকবে না, সব প্রশ্নের সমাধান হয়ে যাবে।” এই মন্তব্যেই যেন আগুনে ঘি পড়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ওই দিন হয়তো তিনি নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করবেন। কেউ কেউ তো বলেই দিচ্ছেন, অন্য কোনও মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি দেখলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
আরও পড়ুনঃ SSC : চার মাস বেতন বন্ধ, স্বীকৃতি নেই ‘যোগ্য’-দের! ৩ হাজার চাকরিহারাকে ফেরাতে নবান্নে ধর্নায় শিক্ষাকর্মীরা, চার দফা দাবিতে উত্তাল হাওড়া!
নিজেকে ‘পার্টি-ম্যান’ বলেই পরিচয় দেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, “আমি নিজে কিছু চাইনি। পার্টি চাইলে কাজ করব। রাজ্য সভাপতি করেছিল, সাংসদ করেছিল, এখন যদি সাধারণ কর্মী হিসেবেই রাখে, তাতেই আমি খুশি।” সব মিলিয়ে, আজকের দফতর যাত্রা শুধু এক শুভেচ্ছা নয়, তা হতে পারে বিজেপি-র অভ্যন্তরীণ সমীকরণে নতুন মোড়ের সূচনাবিন্দুও।





