ভাঙড়ের রাজ্জাক খানের মৃত্যুর দগদগে ক্ষত শুকোতে না শুকোতেই আবারও কাঁপল রাজ্য রাজনীতি। মাঝরাতে হঠাৎ ফোন, তারপর বাইকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত—এই একরত্তি ঘটনাগুলোই বীরভূমের কোমরপুর গ্রামে তৃণমূলের আরেক হেভিওয়েট নেতার মৃত্যুর কারণ হয়ে উঠবে, ভাবেননি কেউই। এলাকার মানুষ এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। প্রশ্ন উঠছে, বারবার কেন নিশানা করা হচ্ছে শাসকদলের নেতাদের? কেন এভাবে রাজনীতির সঙ্গে মৃত্যুর যোগ ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে?
শনিবার রাত প্রায় ২টো নাগাদ আচমকা এক ফোন আসে। সেই ফোন ধরেই বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়েন তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি তথা লাভপুর পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ পীযূষ ঘোষ। এরপরই তার আর কোনো খোঁজ ছিল না। বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে পড়ে থাকতে দেখা যায় তাঁর রক্তাক্ত দেহ। পাশেই পড়ে ছিল বাইক। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, খুব কাছ থেকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে গুলি চালানো হয়েছে। পেছন দিক থেকে মাথায় গুলি লাগতেই ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।
ঘটনার পর থেকেই বীরভূমের কোমরপুর গ্রামে উত্তেজনার পারদ চড়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, পীযূষবাবু বালি ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন এবং তৃণমূল সংগঠনে বেশ প্রভাবশালী ছিলেন। এমন একজন নেতার খুন স্বাভাবিকভাবেই চমকে দিয়েছে এলাকাবাসীকে। পুলিস ঘটনাস্থলের সামনে থাকা একটি বাড়ি থেকে মৌসুমী মাল নামে এক মহিলাকে আটক করেছে। জানা গিয়েছে, তিনি পূর্বে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পীযূষ ঘোষের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক যোগাযোগও ছিল। তবে এই খুনে মৌসুমী আদৌ জড়িত কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, সাঁইথিয়া থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই তিনজনকে আটক করেছে, যার মধ্যে দু’জন মহিলা। কী কারণে এই খুন, কারা এর নেপথ্যে, এর পিছনে রাজনীতির কোনও বড়সড় ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না—তা জানতে শুরু হয়েছে জোরদার তদন্ত। ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিসবাহিনী। স্থানীয় তৃণমূল নেতারা দাবি করেছেন, পরিকল্পনা করেই পীযূষ ঘোষকে খুন করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘ধর্ষ*ণ নয়, অটো থেকে পড়ে গিয়েছিলাম!’ — নির্যাতিতার বাবার বিস্ফোরক দাবি, তদন্তে নতুন মোড় IIM কাণ্ডে!
এর আগে ভাঙড়ে রাজ্জাক খান খুনের ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছিল দুই তৃণমূল নেতাকে। তারপরই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয় রাজ্যজুড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ভাঙড়ের ১০ জন তৃণমূল নেতাকে নিরাপত্তারক্ষী বরাদ্দ করেছে প্রশাসন। এবার বীরভূমে ঘটে যাওয়া এই খুনের পর ফের প্রশ্ন উঠছে, রাজনীতির মাঠে কি নিরাপত্তা আর নিশ্চিত নয়? আতঙ্ক, ক্ষোভ আর রাজনৈতিক তর্জা মিলিয়ে রাজ্যজুড়ে ফের অশান্তির মেঘ।






