সম্প্রতি বিশ্ব বাণিজ্য মঞ্চে ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক নিয়ে নানা জল্পনা ঘুরপাক খাচ্ছিল। বাণিজ্য ঘাটতি, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কিংবা আমেরিকান বাজারে ভারতীয় পণ্যের আধিক্য—এই সব নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন আমেরিকার প্রাক্তন এবং সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অবশেষে আশঙ্কাই সত্যি হল। তাঁর কথাই সত্যি করে, ভারতীয় রফতানি পণ্যের উপর কড়া পদক্ষেপ নিল আমেরিকা।
বুধবার (ভারতীয় সময় বিকেল ৫:৩৯) নিজের সমাজমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ভারতীয় পণ্যের উপর এবার ২৫ শতাংশ শুল্ক বসানো হবে। ঘোষণা অনুযায়ী, এই শুল্ক কার্যকর হবে ১ অগাস্ট থেকে। যদিও ভারতকে ‘বন্ধু রাষ্ট্র’ বলেই সম্বোধন করেছেন তিনি, তবে তাতে শুল্কের কড়াকড়ি কমেনি। বরং রাশিয়া ও চিনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়েই তাঁর মূল আপত্তি।
শুধু শুল্ক নয়, এর সঙ্গে ‘জরিমানা’ ধার্য করার কথাও লিখেছেন ট্রাম্প। যদিও এই জরিমানার পরিমাণ বা ধরন স্পষ্ট করেননি তিনি। তাঁর দাবি, “ভারত বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ শুল্ক আরোপকারী দেশ। মার্কিন পণ্যের উপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপানো হয় ভারতে। পাশাপাশি তারা রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণে তেল এবং সামরিক সরঞ্জাম কেনে। এমন পরিস্থিতিতে আমেরিকাও তাদের পণ্যে শুল্ক চাপাতে বাধ্য।”
ট্রাম্প সরাসরি জানিয়েছেন, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্কই এই শুল্ক চাপানোর অন্যতম কারণ। তিনি লেখেন, “বিশ্ব যখন চাইছে ইউক্রেনে রুশ হত্যালীলা থামুক, তখন ভারত রাশিয়া থেকেই সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ও অস্ত্র কেনে। এই আচরণ সমর্থনযোগ্য নয়।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই কারণেই ভারতকে ‘শাস্তি’ স্বরূপ এই শুল্ক দিতে হবে।
আরও পড়ুনঃ শনি-বুধের বিপরীত গতি: ৩ রাশির ভাগ্যে খুলছে সুসময়ের দরজা! ক্যারিয়ারে প্রমোশন, মিটবে আইনি জটিলতাও!
কিছুদিন আগেই বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেছিলেন, “ভারতের পক্ষে কোনও চুক্তি তখনই সম্ভব, যখন সাধারণ মানুষ এতে লাভবান হবেন।” কিন্তু আমেরিকা ইতিমধ্যেই ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ‘জিরো ট্যারিফ ডিল’-এর নামে কড়া শুল্ক চালু করেছে। এবার ভারতের উপর ২৫% শুল্ক বসিয়ে একই পথেই হাঁটল ট্রাম্প প্রশাসন। এখন দেখার, এই পরিস্থিতি দু’দেশের মধ্যে ভবিষ্যতের বাণিজ্য আলোচনায় কী প্রভাব ফেলে।






