কলকাতার রেলপ্রেমীদের জন্য সুখবর নিয়ে আসছে আগস্টের শেষের দিকে। শহরের ভিড় ও যানজটের মাঝে নতুন এক উদ্দীপনার হাওয়া বইতে চলেছে। শহরবাসীরা কৌতূহলী, কারণ কলকাতায় চলতি মাসেই আসছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুধু প্রশাসনিক কর্মসূচি নয়, তিনি এই সফরে নতুন তিনটি মেট্রো রুটের উদ্বোধন করবেন। দুর্গাপুজোর আগে এই ঘোষণা শহরের মানুষের মধ্যে বিশেষ উত্তেজনা তৈরি করেছে।
শুধু তা নয়, এই সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী দমদমে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের শিলান্যাসও করবেন। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার সামাজিক মাধ্যমে এই খবর শেয়ার করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, পশ্চিমবঙ্গের জন্য এটি “ঐতিহাসিক উপহার”। রেলের তরফেও আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছে, যাতে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে নতুন মেট্রো রুট উদ্বোধন নিশ্চিত হয়। এই রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে শিয়ালদহ-এসপ্ল্যানেড, বেলেঘাটা-হেমন্ত মুখোপাধ্যায় (রুবি) এবং নোয়াপাড়া-জয় হিন্দ (বিমানবন্দর)।
তিন নতুন মেট্রো রুটের পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী হাওড়া মেট্রো স্টেশনের সাবওয়েও উদ্বোধন করবেন। রেলের তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র চলতি বছরের বাজেটেই পশ্চিমবঙ্গকে রেল সংক্রান্ত উন্নয়নের জন্য প্রায় ১৩,৯৫৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। বর্তমানে রাজ্যে ৮৩,৭৬৫ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ চলমান। এর মধ্যে রয়েছে ১০১টি স্টেশনকে বিশ্বমানের রেলস্টেশন হিসেবে পুনর্নির্মাণ করা। ইতিমধ্যেই ৯টি বন্দে ভারত এবং ২টি অমৃত ভারত ট্রেন চালু হয়েছে। নতুন মেট্রো রুট উদ্বোধন এই উন্নয়ন যাত্রাকে আরও বিস্তৃত করবে।
রাজনীতির দিক থেকেও এই সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন যতই কাছে আসছে, ততই কেন্দ্র ও বিজেপি রাজ্যের দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই সফর শুধু মেট্রো উদ্বোধনের জন্য নয়, একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্যও। প্রশাসনিক কর্মসূচি শেষে জনসভায় অংশ নেবেন তিনি, যা শহরের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন দিক খুলতে পারে।
আরও পড়ুনঃ Mamata Banerjee : ‘আমার বার্থ সার্টিফিকেট নেই’ মঞ্চে স্বীকার করলেন মমতা, পরিযায়ী শ্রমিক ও ভাষা ইস্যুতে সরাসরি কি প্রতিশ্রুতি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী?
প্রধানমন্ত্রী মোদীর আগমনে কলকাতার সাধারণ মানুষ ও রেলযাত্রীদের মধ্যে ইতিমধ্যেই উৎসাহের জোয়ার শুরু হয়েছে। নতুন মেট্রো রুট চালু হলে শহরের দৈনন্দিন যাতায়াত সহজ হবে এবং হাওড়া থেকে দমদমের মধ্যকার দূরত্বও কমে আসবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ পশ্চিমবঙ্গের রেল পরিকাঠামোর জন্য এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। দুর্গাপুজোর আগে শহরবাসীর জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি আনন্দের বার্তা।





