West Bengal : চড় খাওয়ার প্রতিশোধ নিতে স্কুলে পিস্তল নিয়ে হাজির তৃণমূল নেতার দশম শ্রেণীর ছেলে, শিক্ষকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক!

স্কুলে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করা নিয়ে ছাত্রকে বকুনি দেওয়াটা সাধারণ ঘটনা। তবে সেই বকুনির পর যদি ছাত্র এমন এক চরম সিদ্ধান্ত নেয়, যা শিক্ষক, সহপাঠী এমনকি গোটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আতঙ্কে ফেলে দেয়, তখনই তৈরি হয় বিস্ফোরক পরিস্থিতি। ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরে তেমনই এক ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।

সোমবার সকালে ইতিহাসের ক্লাসে দুষ্টুমি করছিল দশম শ্রেণির এক ছাত্র। বারবার সতর্ক করার পরেও আচরণ না বদলানোয় শিক্ষক রাগের মাথায় চড় মারেন তাকে। অভিযোগ, তখনই শিক্ষককে ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দেয় ওই ছাত্র। বিষয়টিকে প্রথমে সাধারণ ঝগড়াঝাঁটি বলেই ধরে নিয়েছিলেন সকলে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরেই ঘটনাটি অন্য মোড় নেয়।

টিফিনের সময় হঠাৎই চমকে ওঠেন শিক্ষক ও ছাত্ররা। দেখা যায়, অভিযুক্ত ছাত্রের হাতে একটি দেশি পিস্তল। সহপাঠীরা সেই অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে তীব্র ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এমনকি শিক্ষকের উদ্দেশে গুলি চালানোরও চেষ্টা করে সে। তবে উপস্থিত অন্য ছাত্র ও শিক্ষকদের উদ্যোগে বড়সড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়। স্কুলের ভলান্টিয়ার ছুটে এসে পিস্তলটি কেড়ে নেয় এবং খবর যায় পুলিশের কাছে।

অভিযোগ, ওই ছাত্র স্থানীয় তৃণমূল নেতার ছেলে। পুলিশের জেরায় সে জানিয়েছে, পিস্তলটি তার বাবার এবং বাড়িতেই রাখা ছিল। শুধু পিস্তলই নয়, তার ব্যাগ থেকে ছোরা ও পাঞ্জাও উদ্ধার হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—শাসক দলের নেতার বাড়িতে লাইসেন্সবিহীন অস্ত্র এল কোথা থেকে? শিক্ষকদের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই এমন সাহস দেখাতে পেরেছে ছাত্রটি।

আরও পড়ুনঃ SSC: ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের নির্দেশ বহাল, সুপ্রিম কোর্টে খারিজ রাজ্যের আর্জি! ‘নতুন করে পরীক্ষা ছাড়া উপায় নেই’, স্পষ্ট রায় সুপ্রিম কোর্ট

অভিযুক্ত ছাত্রকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। তবে এখনো তার বাবার খোঁজ মেলেনি। ইতিহাসের শিক্ষক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘আমাকে গুলি করতেই জানলার পাশে এসেছিল ও। বন্ধুরা বাধা না দিলে অঘটন ঘটত।’’ স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার জেরে আতঙ্ক ছড়ালেও আপাতত স্বস্তি একটাই—প্রাণহানির মতো বিপদ এড়ানো গেছে।

আরও অন্যান্য খবর