প্রযুক্তি, বাণিজ্য ও ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে ভারতের গুরুত্ব ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশটির প্রতি দৃষ্টি আগ্রহের সঙ্গে বাড়ছে। তবে সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত এবং কূটনৈতিক দিক থেকে কিছু ঘাটতির কারণে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক গত দুই দশকে যে তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল, তা এখন এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির মুখোমুখি। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতি যদি সঠিকভাবে মোকাবিলা না করা হয়, তাহলে দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত ফাঁক তৈরি হতে পারে।
প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি এই পরিস্থিতিকে গভীরভাবে গুরুত্ব দিয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি ভারতের প্রতি শত্রুভাব পোষণ করলে তা কৌশলগত বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। রাশিয়ার তেল ক্রয় ও বাণিজ্য সংক্রান্ত বিরোধ যেমন দুই দেশের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করছে, তেমনি চিন ক্রমেই ভারতের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি করছে। হ্যালি জানান, ওয়াশিংটন যদি নয়াদিল্লিকে হারায়, তা কেবল কৌশলগত নয়, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বড় ক্ষতি হবে।
নিকি হ্যালি যুক্তরাষ্ট্রকে পরামর্শ দিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক সঠিকভাবে রাখার বিকল্প নেই। তিনি বলেন, “ভারতকে বন্ধু হিসেবে ধরে রাখার চেয়ে বেশি কিছু উভয়ের জন্য অপরিহার্য।” বিশেষ করে এশিয়ায় চীনের প্রভাব মোকাবিলায় ভারতের ভূ-রাজনৈতিক শক্তি অপরিহার্য। তিনি আরও বলেন, ভারত না থাকলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার উৎপাদন কেন্দ্র স্থানান্তরের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারবে না। ভারতের টেক্সটাইল, ফোন ও সোলার প্যানেল তৈরির ক্ষমতা এই কৌশলগত প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকটি পদক্ষেপ সম্পর্ককে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করেছে। বাণিজ্য চুক্তি না হওয়া ও অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ফলে দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব বেড়েছে। ট্রাম্পের নির্দেশে রাশিয়া থেকে ক্রমাগত তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে বিশ্বাসের ঘাটতি তৈরি করেছে। এর প্রেক্ষিতে ভারত চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার পদক্ষেপ নিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘একা পেয়ে পোশাক খুলতে শুরু করেন প্রযোজক!’ হোটেলের বন্ধ করে ধর্ষণের চেষ্টা! প্রাণপণে পালিয়ে এলেন ইন্দ্রাণী…
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সংকট পরিস্থিতি দ্রুত সমাধান না হলে বিশ্বমঞ্চে দুই গণতান্ত্রিক দেশের মধ্যে ফাঁক আরও বৃদ্ধি পাবে। হ্যালি সতর্ক করে বলেছেন, ভারতকে ‘শত্রু’ হিসেবে বিবেচনা করলে কেবল বর্তমান কৌশলগত ও অর্থনৈতিক লক্ষ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, বিশ্বে শক্তির ভারসাম্যও বিপন্ন হবে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই সময়ে কূটনৈতিক সংযম ও সমঝোতা অপরিহার্য।





