দেশ জুড়ে ফের শোরগোল। নতুন এক বিল ঘিরে শুরু হয়েছে চর্চা, উঠছে নানা প্রশ্ন, তৈরি হচ্ছে তর্ক-বিতর্কের ঝড়। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিল। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও এ নিয়ে শুরু হয়েছে প্রবল উত্তেজনা। কেননা, বিলে যা প্রস্তাব রাখা হয়েছে, তা কার্যকর হলে প্রভাব পড়বে দেশের সর্বোচ্চ পদগুলিতেও।
বিলে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, রাজ্যের মন্ত্রী কিংবা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মন্ত্রী—যে-ই হোন না কেন, গুরুতর অপরাধে টানা ৩০ দিন হেফাজতে থাকলে ৩১তম দিন থেকেই তাঁর মন্ত্রিত্ব শেষ হয়ে যাবে। এমন অপরাধগুলিকেই ‘গুরুতর’ বলা হচ্ছে, যেগুলির শাস্তি পাঁচ বছর বা তার বেশি জেল হতে পারে। অর্থাৎ, দেশের শীর্ষ পদগুলিও এর আওতার বাইরে থাকবে না।
তবে এখানেই তৈরি হয় আসল বিতর্ক। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাব রাখা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী পদকে এই সংশোধনী বিলে বাদ দেওয়ার। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, এই প্রস্তাবে রাজি হননি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীই। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর দাবি, বৈঠকে মোদী স্পষ্ট বলেন—“আমার জন্য কোনও ব্যতিক্রম নয়! প্রধানমন্ত্রীও একজন নাগরিক। বিশেষ সুরক্ষা থাকা উচিত নয়।” রিজিজু আরও জানান, মোদীর মতে, দলেরই যদি কেউ ভুল করেন তবে তাকেও শাস্তি পেতে হবে এবং পদত্যাগ করতে হবে।
বুধবার যখন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ লোকসভায় এই বিল পেশ করেন, তখনই বিরোধীরা সরব হন। তাঁদের অভিযোগ, এই আইন কার্যকর হলে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে বিরোধী রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রীদের বিপদে ফেলা হতে পারে। বিরোধী শিবিরের মতে, এভাবে দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং সংবিধানের মূল চেতনা আঘাত পাবে। তাঁদের প্রশ্ন, সংবিধান যেখানে বলে দোষ প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত কেউ নির্দোষ, সেখানে এই বিল কার্যকর হলে তা সাংবিধানিক মূল্যবোধের পরিপন্থী হবে।
আরও পড়ুনঃ Kolkata airport : বিদেশযাত্রার আগে বিপত্তি! কলকাতা বিমানবন্দরে কুকুরের কামড়ে আতঙ্ক, শিশুর আঘাতে ভ্রমণ বাতিল পরিবারের!
লোকসভায় এই বিল নিয়ে প্রবল হট্টগোল চললেও শেষ পর্যন্ত সংসদীয় যৌথ কমিটির কাছে পাঠানোর প্রস্তাবে অনুমোদন মিলেছে। গঠিত হয়েছে ৩১ জন সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি, যারা বিষয়টি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করবেন। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভাতেও এই বিল পেশ করা হয়েছে। এখন দেশ তাকিয়ে আছে—আলোচনার পর এই বিলের ভবিষ্যৎ কী হবে, আর তা কার্যকর হলে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে কেমন প্রভাব ফেলবে। আপাতত স্পষ্ট—প্রধানমন্ত্রী নিজেকে কোনও ছাড় দিতে নারাজ, আর সেই সিদ্ধান্তই বাড়িয়ে দিয়েছে বিতর্কের মাত্রা।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার