পাকিস্তানে হিন্দু, খ্রিষ্টান, শিখ, আহমদিয়াদের মতো ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা যে কী চরম দুর্দশা ও নির্যাতনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, তা নিয়ে একটি তীব্র সমালোচনামূলক রিপোর্ট প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশন।
রিপোর্টে তাঁরা দেখিয়েছেন, কীভাবে সেখানে সংখ্যালঘু সমাজের নারী বা বাচ্চা মেয়েরা পর্যন্ত ধর্ষণ ও অপহরণের শিকার হচ্ছেন। তাঁদের প্রতিনিয়ত খুনের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিকভাবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী হওয়ার কারণে তাদের ওপর নানাভাবে বৈষম্য করা হচ্ছে রাষ্ট্রীয় মদতেই। দেশের সংবিধানে উল্লিখিত ধর্মীয় স্বাধীনতা টুকুও তাঁরা পান না।
পাশাপাশি মন্তব্য করা হয়েছে, সুন্নি মুসলিম-গরিষ্ঠ পাকিস্তানি সমাজ এই সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ হিংসা, গণহত্যা, বিচারবহির্ভূত হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ কিংবা জোর করে ইসলামে ধর্মান্তর করে চলেছে নির্বিচারে।
প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদন – স্টেট অফ হিউম্যান রাইটস ২০১৯ – এ এইচআরসিপি বলেছে: “পাঞ্জাবের সংখ্যালঘু আহমদিয়া সম্প্রদায়ের জন্য তাও বেশ কয়েকটি উপাসনার স্থান অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু সিন্ধু ও পাঞ্জাব উভয় প্রদেশেই হিন্দু এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের জোর করে ধর্মান্তরিত করার ঘটনা বিরামহীন ভাবে চলছে।” রিপোর্ট আরও বলছে পাঞ্জাবে, ১৪ বছরের কম বয়সী মেয়েদের জোর করে ধর্মান্তরিত করা হয় এবং তাঁদের জোর করে বিয়ে করা হয়।
“জানুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট সংখ্যালঘুদের অধিকার সংরক্ষণ এবং ধর্মীয় ও সামাজিক সহিষ্ণুতার সংস্কৃতির প্রচার নিয়ে ২০১৪ সালের রায় কার্যকর করার বিষয়ে রিপোর্ট করার জন্য একক কমিশন গঠন করেছে,” রিপোর্টে বলা হয়েছে। “সংখ্যালঘুদেরকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ থেকে রক্ষা করার জন্য ২২ সদস্যের সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয় এবং তাঁদের হাতে জোরপূর্বক ধর্মান্তরের বিরুদ্ধে আইন প্রণয়নের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়।”
রিপোর্টে জানানো হয়েছে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের চাকরির কোটা এখনও কার্যকর হয়নি। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে মহিলাদের অধিকার সংরক্ষণ এবং প্রচারের জন্য আইন আইন করা সত্ত্বেও, সংখ্যালঘু মহিলাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বেড়েছে। রিপোর্টে একের পর এক ঘটনা নিয়ে পাকিস্থানে বসবাসকারী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দুর্বিষহ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।





