তুফানগঞ্জে সোমবার দুপুরে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে উঠল। বিজেপির কর্মসূচি ঘিরে শহরের বাতাবরণ এক সময় এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, স্থানীয় মানুষের কণ্ঠে শোনা যায় ‘গো ব্যাক’ স্লোগান। পরিস্থিতি দ্রুত এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, পুলিশ উপস্থিত থাকলেও রাস্তায় ধুন্ধুমার অবস্থা তৈরি হয়। কোথা থেকে শুরু হল এই সংঘাত, আর কেনই বা বিধায়ককে ঘিরে এমন প্রতিবাদের সুর, সেই প্রশ্ন ঘিরে এখন সরগরম রাজনীতি।
বিজেপির দাবি, পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরে ডাক্তারি পড়ুয়াকে গণধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে তাঁদের তুফানগঞ্জ থানা ঘেরাও কর্মসূচি ছিল। কিন্তু সেই কর্মসূচি বিধ্বস্ত করতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে উত্তেজনা ছড়ানো হয়। অভিযোগ, পুলিশের সামনেই এক বিজেপি কর্মীকে মারধর করে তৃণমূলের সমর্থকরা। লাথি, কিল, চড়—সব রকম হামলার শিকার হন তিনি। ঘটনায় উপস্থিত ছিলেন তুফানগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক মালতি রাভা। তাঁর অভিযোগ, সারা বাংলায়ই আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে, আর সোমবারের ঘটনাই তার জ্বলন্ত উদাহরণ।
ঘটনার মাত্রা আরও বেড়ে যায় যখন বিজেপির কার্যালয়ের দিকেও শুরু হয় ইটবৃষ্টি। সেখানে উপস্থিত নেতা-সহ কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। মালতি রাভার অভিযোগ, প্রশাসন সম্পূর্ণ নীরব থাকে এবং রাজনৈতিকভাবে বিরোধীদের কর্মসূচি বানচাল করাই শাসকদলের উদ্দেশ্য। তিনি আরও বলেন, একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও রাজ্যে মেয়েরা সুরক্ষিত নয়।
তৃণমূল অবশ্য পাল্টা অভিযোগ করেছে। তুফানগঞ্জ তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি গৌতম সরকারের দাবি, শহরে বিজেপি মানুষের জন্য কোনও কাজই করেনি। বিধায়ক মালতি রাভা ভোটের পরে এলাকার পাশে দাঁড়াননি, বরং আসেন অশান্তি ছড়াতে এবং কর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা করতে। তাঁর মতে, সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশই সোমবারের ঘটনাগুলি।
আরও পড়ুনঃ Astrology: মঙ্গলের মহাগোচর! গুরুর নক্ষত্রে প্রবেশে ভাগ্যচক্র ঘুরবে এই ৩ রাশির
এই সংঘাতের ফলে তুফানগঞ্জে রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন করে উসকে উঠেছে। শাসক-বিরোধী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহে, শহরের সাধারণ মানুষ এখন প্রশ্ন তুলছেন—এলাকার উন্নয়ন ও নিরাপত্তা কোথায় দাঁড়িয়ে আছে, আর রাজনৈতিক লড়াই কবে নাগাদ জনস্বার্থের পথে ফিরবে। ঘটনাটির তদন্তে পুলিশ এখনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি, তবে দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে স্পষ্ট, আগামী দিনে এই ঘটনার প্রতিচ্ছবি রাজনীতিতে আরও স্পষ্টভাবে ধরা পড়তে পারে।






