পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। আগামী বছরের বিধানসভা ভোটের আগে নতুন ভোটার তালিকা তৈরির কাজ শুরু করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। ধাপে ধাপে বুথভিত্তিক পর্যবেক্ষণ থেকে শুরু করে নথি যাচাই—সব মিলিয়ে রাজ্যজুড়ে বিপুল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। কমিশনের লক্ষ্য, একদিকে যেন কোনও বৈধ ভোটার বাদ না পড়েন, অপরদিকে একজন অবৈধ ভোটারও তালিকায় না থাকেন।
দিল্লিতে গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত কমিশনের দ্বিতীয় দফার বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গসহ ভোটমুখী রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়। বাংলার সিইও মনোজ আগরওয়াল জানান, বিএলও নিয়োগ সংক্রান্ত কিছু সমস্যা ছাড়া প্রায় সব প্রস্তুতি শেষ। বিহারে যেমনভাবে এসআইআর কার্যকর হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গেও প্রায় সেই একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। তবে এ রাজ্যে ২০০২ সালের ভোটার তালিকাকে ভিত্তি ধরে ম্যাপিং প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে, যাতে পুরনো ভোটারদের পরিচয় যাচাই সহজ হয়।
তবে প্রশ্ন উঠছে—তালিকায় নাম রাখতে কী কী নথি লাগবে? কমিশনের নির্দিষ্ট ১১টি নথিই থাকবে এই প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি। এর মধ্যে রয়েছে সরকারের দেওয়া চাকরির পরিচয়পত্র, জন্ম শংসাপত্র, ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিসের পুরনো নথি, মাধ্যমিকের সার্টিফিকেট, জাতিগত ও বাসস্থানের শংসাপত্র, এমনকি পাসপোর্ট ও জমির দলিলও। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী আধার দেখানো গেলেও শুধু তা নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে না। কমিশন জানিয়েছে, ২০০২ সালের তালিকায় যদি বাবা বা মায়ের নাম থাকে, তবে নাগরিক প্রমাণে সেই ব্যক্তিকে আলাদা নথি দিতে হবে না।
প্রত্যেক ভোটারের বাড়িতে পৌঁছে যাবে ‘এনুমারেশন ফর্ম’। সেখানে আগের তথ্যগুলির সঙ্গে নতুন তথ্য ও নথি জমা দিতে হবে। একজন ভোটারের জন্য দু’টি করে ফর্ম ছাপানো হবে—একটি ভোটারের কাছে থাকবে, আর একটি জমা নেবেন বুথ লেভেল অফিসার। যারা নতুন ভোটার, তাঁদের কমিশনের ৬ নম্বর ফর্মে আবেদন করতে হবে। তবে যারা এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন না, ২০২৬ সালের নতুন ভোটার তালিকা থেকে তাঁদের নামই মুছে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কাও তৈরি হবে।
আরও পড়ুনঃ West Bengal : কালীপুজোর বিসর্জনে রণক্ষেত্র! যুবকের গায়ে পেট্রোল ঢেলে পু*ড়িয়ে মা*রার চেষ্টা —শাসক দলের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ!
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কাদের নাম বাদ যেতে পারে? কমিশনের একাংশের অনুমান, মৃত, দ্বৈত-তালিকাভুক্ত এবং নাগরিকত্ব প্রমাণে ব্যর্থ মিলিয়ে প্রায় এক কোটির কাছাকাছি নাম বাদ পড়তে পারে। বিশেষত যাঁদের পরিবারের কারও নাম ২০০২ সালের তালিকায় নেই, তাঁদের নাগরিকত্ব নিয়ে কমিশন প্রশ্ন তুলতে পারে। বিজেপি যেখানে এই প্রক্রিয়াকে ‘অবৈধ নাম পরিষ্কার’-এর প্রয়াস বলছে, সেখানে বিরোধী শিবির দাবি করছে, এটি রাজনৈতিকভাবে তাড়িত এক উদ্যোগ। বিতর্কের মধ্যেই নির্দিষ্ট সময়ে এসআইআরের কাজ শেষ করে আগামী নির্বাচনের আগে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করতে মরিয়া কমিশন।





