বোলপুরের আকাশে কালীপুজোর পরদিনও উৎসবের আবহ ছিল, কিন্তু এবার সেই আনন্দেই ছায়া ফেলেছে এক বড় বিতর্ক। থানার চত্বরে পুলিশ কর্মীদেরই নাচগান ঘিরে এখন তোলপাড় গোটা বীরভূম। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল একাধিক ভিডিও— সেই ভিডিওতেই দেখা যাচ্ছে, ডিজেতে ‘চিকনি চামেলি’-র তালে কোমর দুলছে থানার সদস্যদের। আরও বিস্ময়ের, সেই দৃশ্যে উপস্থিত বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদার নিজেও। যেখানে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করার কথা, সেখানেই পালিত হচ্ছে ডিজে পার্টি!
সূত্রের খবর, ঘটনাটি ঘটেছে কালীপুজোর দ্বিতীয় রাতেই, থানার ভিতরেই। আলোকসজ্জা, গান, নাচ— সবই চলেছে চোখের সামনে। নিরাপত্তা বজায় রেখে পুজোর ব্যস্ততা সামলানোর বদলে অভিযোগ উঠছে পুলিশ কর্মীরাই মেতে উঠেছিলেন অনিয়ন্ত্রিত উৎসবে। কালীপুজোর আগে শব্দদূষণ রুখতে রাজ্যজুড়ে ছিল পুলিশের কঠোর নির্দেশ। শব্দবাজি তো দূরের কথা, ডিজে বাজানোতেও ছিল স্পষ্ট নিষেধ। তবুও বোলপুর থানার চত্বরে বেজেছে উচ্চস্বরে বক্স— এই খবরে গরম রাজনৈতিক মহল।
জেলা পুলিশ সূত্রে খবর এসেছে, ভাইরাল ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। ইতিমধ্যে বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারকে শোকজ করা হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে— থানার ভিতর এইরকম কাজ কে অনুমতি দিল? শৃঙ্খলায় এত ফাঁক থেকে গেল কীভাবে? জেলা পুলিশ মহল সূত্রে জানা যাচ্ছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা শীর্ষ মহলের একাংশ জানিয়েছেন, “আইনের চোখে সবাই সমান, তাই এই ঘটনাতেও যথাযথ ব্যবস্থা নেব।”
এদিকে, রাজনৈতিক দিক থেকেও এই ঘটনার উত্তেজনা ছড়াচ্ছে দ্রুত। কারণ, এটাই প্রথম নয় যে লিটন হালদার বিতর্কের মুখে। এর আগেও তাঁর নামে ওঠেছিল বেশ কিছু অভিযোগ। একসময় অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে মুখের লড়াইয়ে জড়িয়ে নিন্দার কেন্দ্রবিন্দু হয়েছিলেন তিনি। সেই সময় কেষ্টর বিরুদ্ধেও দায়ের হয়েছিল এফআইআর, আলোড়ন পড়েছিল রাজ্য রাজনীতিতে। পরে অবশ্য অনুব্রত চিঠি দিয়ে দলের কাছে ক্ষমা চেয়ে বিষয়টি মিটিয়েছিলেন।
আরও পড়ুনঃ Humayun Kabir : শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির বৈঠকেও কি থামানো যাবে ‘বেপরোয়া’ হুমায়ুনকে? এবার কি সত্যিই কড়া শাস্তির পথে তৃণমূল?
তাই এবার প্রশ্ন উঠেছে— পুরনো সেই নামই আবার কেন শিরোনামে? অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ মহল বলছে, “সময়ই বলবে, এই ঘটনার প্রভাব কতদূর গড়াবে।” তবে আপাতত অনুব্রত কিংবা তাঁর ঘনিষ্টদের পক্ষ থেকে এখনও কোনও মন্তব্য আসেনি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, লিটন হালদারকে ঘিরে বিতর্ক মানে কেষ্টকেও ছেড়ে কথা বলে না কেউ। উৎসবের আবহে আইনরক্ষকের নাচ কি শেষমেষ আইনের জালে আটকে পড়বে— এখন সেটাই দেখার।






