ছোট্ট এক গ্রামের সকালটা ছিল একেবারে সাধারণ দিনের মতোই। মাঠে গরু ছাগল চরছে, লোকজন ব্যস্ত নিজেদের কাজকর্মে। কিন্তু সেই স্বাভাবিক সকাল মুহূর্তের মধ্যেই বদলে গেল হইচই, চিৎকার আর দৌড়ঝাঁপে। এক সামান্য ছাগল চড়ানো নিয়ে শুরু হওয়া ঝামেলা এবং ধীরে ধীরে রূপ নেয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে, যার শেষ হল এক তৃণমূল কর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যুর মধ্য দিয়ে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় একটি ছাগলকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, কারও ছাগল অন্যের জমিতে ধান খেয়ে ফেলে। এই নিয়েই দুই পরিবারের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। কিন্তু সেই তর্ক মুহূর্তেই রূপ নেয় সংঘর্ষে। দু’পক্ষই একে অপরের দিকে তেড়ে যায় লাঠি, বাঁশ, এমনকি লোহার রড নিয়েও। পরিস্থিতি সামাল দিতে আসে পুলিশ।
চোখের সামনে ঘটে যেতে থাকে মারামারি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও রাগে ফুঁসতে থাকা গ্রামবাসীদের থামানো যায়নি। পুলিশকে ঘিরেই চলে বেধড়ক লাঠালাঠি। পরে বিশাল পুলিশ বাহিনী এসে নিয়ন্ত্রণে আনে পরিস্থিতি। তবে তখনও রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েছেন কয়েকজন।এই ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের লাভপুরের কুসুমগরিয়া গ্রামে।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন ৬৫ বছরের আবদুল রহমান মল্লিক নামে এক তৃণমূল কর্মী। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। টানা দু’দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে শুক্রবার রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
স্থানীয় সূত্রে খবর, যদিও ঘটনাটি ছাগল চড়ানো নিয়ে শুরু হয়েছিল, আসল কারণ লুকিয়ে আছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপোড়েনে। পঞ্চায়েতের টেন্ডার বণ্টন, এলাকা দখল ও প্রভাব বিস্তার—এই নিয়েই তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে মনোমালিন্য ছিল। সেই পুরনো ক্ষোভই এই বিবাদের আগুনে ঘি ঢেলেছে বলে অভিযোগ।
আরও পড়ুনঃ Suvendu Adhikari : ‘প্রতি রোহিঙ্গা ৫০০ টাকায় ধরা পড়বে!’— শুভেন্দুর বিস্ফোরক দাবি, তৃণমূলকে নিশানা করে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি!
তবে স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক অভিজিৎ সিংহ দাবি করেছেন, “দল এর সঙ্গে কোনওভাবেই যুক্ত নয়। এটা সম্পূর্ণভাবে দুই পরিবারের ব্যক্তিগত বিবাদ। ছাগল ধান খাওয়াকে কেন্দ্র করেই ঝামেলা হয়েছে।” ইতিমধ্যেই এলাকায় পুলিশ ক্যাম্প বসানো হয়েছে, টহলদারি চলছে। তবে গ্রামবাসীদের আতঙ্ক এখনও কাটেনি।






