বাংলার রাজনীতিতে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ নামটা এখন আর কেবল একটি প্রকল্প নয়, অনেকটা আবেগের প্রতীক। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম জনপ্রিয় উদ্যোগ এই প্রকল্প রাজ্যের অগণিত গৃহবধূর মুখে হাসি ফোটিয়েছে। ২০২১ সালের নির্বাচনের আগে এই প্রকল্পকেই মহিলা ভোটারদের কাছে তৃণমূলের ‘মাস্টারস্ট্রোক’ বলা হয়েছিল। কিন্তু এখন সেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়েই ফের জোরালো রাজনৈতিক তরজা।
পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নায় দৃশ্যটা ছিল চোখে পড়ার মতো। হাতে ঝান্ডা আর ঝাঁটা নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েছেন শত শত মহিলা। তাঁদের অভিযোগ, তিন মাস ধরে বন্ধ তাঁদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা। বিডিও অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে শুরু হয় ধস্তাধস্তি। পুলিশের বাধার মুখেও পিছিয়ে যাননি তাঁরা। কারও হাতে ঝাঁটা, কারও হাতে পতাকা— ক্ষোভ যেন ফেটে পড়েছে প্রতিটি মুখে।
অভিযোগের আঙুল উঠেছে সরাসরি তৃণমূলের দিকে। বিজেপির দাবি, ময়নার বাকচা ও গজিনা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়, যেখানে বিজেপি ক্ষমতায়, সেখানকার প্রায় ৯ হাজার মহিলা গত কয়েক মাস ধরে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রকল্পের টাকার থেকে। প্রশাসনকে একাধিকবার জানিয়েও কোনও সুরাহা মেলেনি। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিশোধের কারণেই আটকে রাখা হচ্ছে অর্থপ্রদান।
উল্লেখ্য, এই প্রকল্পে সাধারণ শ্রেণির মহিলারা প্রতি মাসে পান ১,০০০ টাকা করে, আর তফশিলি জাতি ও জনজাতির মহিলারা পান ১,২০০ টাকা। নির্বাচনের পর থেকে এই প্রকল্পই তৃণমূলের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগই বহু মহিলা ভোটারকে ঘাসফুলের দিকে টেনে এনেছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও সমান বণ্টন নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
আরও পড়ুনঃ Central government : চন্দ্রযানের সমান আয়! বাতিল কাগজপত্র বিক্রি করেই ৬০০ কোটি তুলল কেন্দ্র!
২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ ফের রাজনীতির কেন্দ্রে। শুভেন্দু অধিকারীর গড়ে এই বিক্ষোভ যেন নতুন করে বাড়িয়ে দিল উত্তাপ। বিজেপি বলছে, ‘‘তৃণমূল ভোটের রাজনীতি খেলছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে,’’ আর তৃণমূলের বক্তব্য, ‘‘প্রশাসনিক কারণে কিছু বিলম্ব হয়েছে, এর সঙ্গে রাজনীতির যোগ নেই।’’ তবে ময়নার রাস্তায় যে ঝাঁটার আওয়াজ উঠেছে, তাতে স্পষ্ট— ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর এই অচলাবস্থা এখন বাংলার রাজনীতিতে বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।





