কাশ্মীর উপত্যকা গত কয়েক দিন ধরেই উত্তপ্ত। প্রশাসনিক মহলে চাপা টানটান উত্তেজনা, আর সাধারণ মানুষের মধ্যে ঘোর অনিশ্চয়তা। কারণ, লালকেল্লায় হওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণের সূত্র এবার পৌঁছে গেছে সোজা পুলওয়ামার এক চিকিৎসকের দরজায়। রাতের অন্ধকারে শুরু হওয়া অভিযানের গুঞ্জন শুক্রবার সকালেই স্পষ্ট হয়ে যায়—এবার বড় পদক্ষেপ নিয়েছে নিরাপত্তাবাহিনী।
দ্বিতীয় দিনের রাত গড়িয়েই পুলওয়ামার সেই বাড়ির চারদিক ঘিরে ফেলেন সেনা ও তদন্তকারী সংস্থার সদস্যরা। এলাকাজুড়ে তখন কেবল একটাই প্রশ্ন—শেষ পর্যন্ত কী হতে চলেছে? সরকারি সূত্র জানায়, তদন্তের স্বার্থেই বাড়িটি ‘কন্ট্রোল্ড ডেমোলিশন’-এর মাধ্যমে উড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। আশঙ্কা ছিল, ভেতরে বিস্ফোরক বা গুরুত্বপূর্ণ কোনও নথি লুকিয়ে থাকতে পারে। তাই নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ছাড়া কোনও নিরাপদ পথ ছিল না। সেই রাতেই IED-এর সাহায্যে বাড়িটি ধ্বংস করা হয়।
এদিকে, বিস্ফোরণের পর থেকেই একাধিক তথ্য একে একে সামনে আসতে থাকে। সোমবার লালকেল্লার এলাকায় যে হিউন্দাই i20 গাড়িটি বিস্ফোরণে ব্যবহৃত হয়েছিল, সেটি সরাসরি যুক্ত পাওয়া গেছে চিকিৎসক উমর উন নবির সঙ্গে। ১৩ জনের প্রাণ গেল যে বিস্ফোরণে, আহত হলেন ২০ জনেরও বেশি—তদন্তকারীদের ধারণা, সেই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন উমরই। ঘটনার পর গভীর রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করে, যাদের মধ্যে ছিলেন উমরের পরিবারের তিন সদস্য। পরে বিস্ফোরণস্থলের ডিএনএ নমুনা তাঁর মায়ের নমুনার সঙ্গে মেলানো হলে পরিচয় নিশ্চিত হয়।
তদন্তের জালে উঠে এসেছে আরও উদ্বেগজনক তথ্য। পুলিশ বলছে, উমর নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন আরও দুই কাশ্মীরি চিকিৎসকের সঙ্গে, যাদের ফরিদাবাদ মডিউল ভাঙার পর ধরা হয়েছিল। সেই মডিউল থেকে উদ্ধার হয়েছিল বিশাল পরিমাণ বিস্ফোরক—প্রায় ২,৯০০ কেজি। এত বড় নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত থাকার সম্ভাবনাই তদন্তকে আরও বহু স্তরে ছড়িয়ে দিয়েছে। এলাকার বাসিন্দাদের মতে, কয়েক বছর আগেও উমর ছিলেন শান্ত, পড়ুয়া, সমাজে পরিচিতি-সম্পন্ন এক ডাক্তার। কিন্তু গত দুই বছরে আচরণে স্পষ্ট বদল আসে। সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েন র্যাডিকাল গ্রুপে।
আরও পড়ুনঃ ‘ভোটারকে এখন নেতারাই বেছে নিচ্ছে!’, নচিকেতার বিস্ফোরক মন্তব্যে নেটদুনিয়ায় ঝড়
বর্তমানে তদন্তকারী সংস্থারা খতিয়ে দেখছেন তাঁর সহযোগীরা কারা, কোথা থেকে অর্থ আসত, আর কোন নেটওয়ার্কের নির্দেশে এত বড়সড় হামলার পরিকল্পনা তৈরি হচ্ছিল। পুলওয়ামার বাড়ি ভাঙা হয়েছে মূলত সম্ভাব্য বিপদ এড়াতেই। তবে এই ধ্বংসস্তূপ থেকেই নতুন কোনও সূত্র মিলবে কি না—সেদিকেই এখন নজর গোটা দেশের।





