বিহারের রাজনীতি সব সময়ই নানা সামাজিক বাস্তবতাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে। নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতির ঝড়, প্রচারের গতি, ভোটের অঙ্ক—সব মিলিয়ে বারবার পরিবর্তন হয়েছে সমীকরণ। কিন্তু এ বার ভোট শেষ হওয়ার পর যে চিত্র সামনে এসেছে, তা সংখ্যালঘু সমাজের একটা বড় অংশকে ভাবতে বাধ্য করছে। কারণ প্রতিনিধিত্বের অঙ্কে দেখা যাচ্ছে, মুসলিম বিধায়কের সংখ্যা আশঙ্কাজনক ভাবে কমে গিয়েছে।
বিহারের জাতগণনার তথ্য বলছে, রাজ্যের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৭.৭ শতাংশই মুসলিম। স্বাভাবিক ভাবেই এত বড় একটি জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বও তুলনামূলকভাবে বেশি থাকবে—এটাই ছিল সাধারণ ধারণা। কিন্তু ভোটের ফল ঘোষণা হতেই দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। সংখ্যালঘু ভোটারদের গুরুত্ব নিয়ে সব দলই নানা কথা বললেও, প্রার্থী বাছাইয়ের সময় মুসলিমদের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছিল এনডিএ হোক বা মহাগঠবন্ধন—দু’পক্ষই। এই সিদ্ধান্তের প্রভাবই শেষ পর্যন্ত পড়েছে ফলাফলে।
২৪৩ আসনের বিহার বিধানসভায় এ বার মাত্র ১০ জন মুসলিম বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। সাত দশকের ইতিহাসে এই সংখ্যা সবচেয়ে কম। তুলনা করলে দেখা যায়, ২০২০ সালে মুসলিম বিধায়ক ছিলেন ১৯ জন। তার আগে ২০১৫ সালে ছিলেন ২৪ জন। অর্থাৎ ধাপে ধাপে প্রতিনিধিত্ব কমতে কমতে এ বার তা ৫ শতাংশেরও নিচে নেমে গিয়েছে। যা রাজ্যের রাজনৈতিক ছবিতে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জয়ী ১০ জনের অর্ধেকই এসেছে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল মজলিস-ই ইত্তেহাদুল মুসলিমিন থেকে। মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের জেডিইউ চার জন মুসলিম প্রার্থী দিলেও জয়ী হয়েছেন মাত্র এক জন—মহম্মদ জামা খান, যিনি আগেও অন্য দলের টিকিটে জিতেছিলেন। এনডিএ-র শরিক লোক জনশক্তি পার্টির একমাত্র মুসলিম প্রার্থীও হাতে পাননি জয়ের স্বাদ। অন্যদিকে আরজেডি ও কংগ্রেস পক্ষে দু’জন করে মুসলিম প্রার্থী জিতেছেন।
আরও পড়ুনঃ Burrabazar Fir*e Update:“আগে ২২ বার আগুন! অভিযোগ জানিয়েও সুরাহা নেই”—বড়বাজার বিপ*র্যয়ে দমকলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক কাউন্সিলর!
ভোটের সময় প্রতিটি দলই বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে—এক কোটি চাকরি, মহিলাদের আর্থিক সহায়তা, উন্নয়নের আশ্বাস—কিছুই বাদ ছিল না। কিন্তু প্রতিশ্রুতির আড়ালে যে একটি বড় অংশের প্রতিনিধিত্বই ক্রমশ কমছে, তা এখন স্পষ্ট। আগামী দিনে নির্বাচনী রাজনীতিতে সংখ্যালঘুদের ভূমিকা বা তাদের রাজনৈতিক শক্তি কোন দিকে যাবে, তা নিয়েই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। বিহারের ভোট-পরবর্তী এই চিত্র ভবিষ্যতের সমীকরণেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে—এমনটাই মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।






