বছরের শেষের দিকে মধ্যবিত্তদের জন্য সুখবর। বাড়ি, গাড়ি বা ব্যক্তিগত ঋণ নেওয়া অনেকের জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে থাকে। এবার সেই ঋণের চাপ কমতে পারে। কারণ রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) হঠাৎ রেপো রেট কমিয়েছে, যা লোনের ইএমআই কমানোর ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলবে। অর্থাৎ ঋণ নেওয়া আরও সস্তা হবে।
এই বছরের শেষ মানিটারি পলিসি কমিটির বৈঠকে বুধবার শুরু হওয়া আলোচনা শেষে শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, আরবিআই-এর গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা ঘোষণা করেছেন রেপো রেট কমানোর সিদ্ধান্ত। ৫.৫০ শতাংশ থেকে এটি কমে ৫.২৫ শতাংশে নেমেছে। এই পরিবর্তনের ফলে গৃহঋণ, গাড়ি ঋণ এবং ব্যক্তিগত ঋণের মাসিক কিস্তি হ্রাস পাবে। কেউ চাইলে কমানো কিস্তি রাখতে পারেন, নতুবা একই কিস্তি রেখে ঋণের মেয়াদ ছোট করতে পারবেন। তবে এই পদক্ষেপে ব্যাঙ্কে টাকা জমা রাখা গ্রাহকদের জন্য কিছুটা চিন্তাও তৈরি হয়েছে।
রেপো রেট কমানোর প্রধান কারণ হিসেবে আরবিআই গভর্নর জানিয়েছেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে ‘গোল্ডিলক্স পিরিয়ডে’ আছে। অর্থাৎ, অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার ভালো, বেকারত্ব কম এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রিত। অক্টোবর এবং আগস্ট মাসের বৈঠকে যদিও রেপো রেটে কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি, তবু এই বছর মোট ১২৫ বেসিস পয়েন্ট হ্রাস করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারি, এপ্রিল এবং জুন মাসে তিন দফায় হ্রাসের পর ডিসেম্বরেই ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমানো হলো। এ বছরের শুরুতে রেপো রেট ছিল ৬.৫০ শতাংশ।
জিডিপি এবং মুদ্রাস্ফীতি সম্পর্কেও গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা আশা প্রকাশ করেছেন। গত মাস কিছুটা খারাপ গেলেও আগামী কয়েক মাসে জিডিপি স্থিতিশীল ও উন্নয়নশীল থাকবে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জন্য দেশের প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধির হার অনুমান করা হয়েছে ৭.৩ শতাংশ, যা আগের পূর্বাভাসের চেয়ে ০.৫ শতাংশ বেশি। অক্টোবর মাসে মুদ্রাস্ফীতি ছিল মাত্র ০.২৫ শতাংশ এবং চলতি অর্থবর্ষের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে জিডিপি বৃদ্ধি হয়েছে ৮.২ শতাংশ।
আরও পড়ুনঃ Sujay Krishna Bhadra : ‘কালীঘাটের কাকু’কে শর্তসাপেক্ষ জামিন! প্রাইমারি নিয়োগ কেলেঙ্কারির মাঝেই বড় স্বস্তি সুজয়কৃষ্ণের—হাইকোর্টের সিদ্ধান্তে নতুন বিতর্কের ঝড় রাজ্যে!
অর্থনীতিবিদদের মতে, রেপো রেট কমানোর এই পদক্ষেপ দেশের বাজারে আরও গতি যোগ করবে। আগস্টের বিরতির পরে এবার প্রথমবারের মতো সুদের হারে পরিবর্তন আনলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সঞ্জয় মালহোত্রার নেতৃত্বে আরবিআই পোস্ট-প্যান্ডেমিক পুনরুদ্ধার থেকে শৃঙ্খল নির্ভর সহজীকরণের পথে এগোচ্ছে, আর এই সিদ্ধান্ত তারই প্রতিফলন। মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এখন ঋণ নেওয়া আরও সহজ এবং মাসিক কিস্তি হ্রাসে অর্থনৈতিক চাপ কিছুটা কমবে।az






