কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে লিওনেল মেসির (Lionel Messi) আগমন সারা দেশের নজর কেড়েছে। কিন্তু এই ট্যুরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে চরম বিশৃঙ্খলার ঘটনা, যা শুধু সাধারণ দর্শকদের নয়, আন্তর্জাতিক মহলেও বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। হাজার হাজার ভক্ত টিকিট কেটে মেসিকে দেখার জন্য ভিড় জমিয়েছিলেন, কিন্তু স্টেডিয়ামে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে দর্শকরা অসন্তুষ্ট হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
এই ঘটনার পর পড়শি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sharma) মুখ খুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, পশ্চিমবঙ্গের ভিআইপি সংস্কৃতির কারণে এই বিশৃঙ্খলা হয়েছে। হিমন্ত বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ এমন একটি রাজ্য যেখানে কিছুই অনুমান করা যায় না। মেসি সারা বিশ্বের কাছে একজন আদর্শ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আত্মসমালোচনা করা উচিত। বাংলায় প্রতিদিন নিরীহ মানুষদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে। এটি উদ্বেগের বিষয়।”
তিনি আরও বলেন, এই ঘটনায় প্রথম দায় রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এবং পুলিশ কমিশনারের। মেসির ট্যুরের সময় আইনশৃঙ্খলা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিল। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জুবিন গর্গের মৃত্যু পরবর্তী গুয়াহাটির পরিস্থিতির সঙ্গে মেসি অনুষ্ঠান তুলনা করে বলেন, সেখানে বড় জনসমাগম হলেও কোনও বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি। পোস্ট ম্যালোনের অনুষ্ঠান ও মহিলা বিশ্বকাপের ফাইনালও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছিল, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ভিআইপি সংস্কৃতি পুরো পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে।
সল্টলেক স্টেডিয়ামে মেসি প্রায় ২০ মিনিটের জন্য মাঠে ছিলেন, কিন্তু এই সময়ে স্টেডিয়ামে ৮০ জনের মতো ব্যক্তি তার চারপাশে ঘোরাফেরা করছিলেন। মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও পুলিশের বড় বলয় মেসির সঙ্গে ছবি তোলাতে ব্যস্ত ছিলেন। ভক্তরা ধৈর্য হারিয়ে ‘বু’ করতে শুরু করেন। স্টেডিয়ামে অনুমোদিত না থাকা বোতল বিক্রি ও তার উড়িয়ে ফেলার ঘটনা সংঘটিত হয়। গ্যালারি থেকে সিট ভেঙে ফেলা হয়, চেয়ারে আগুন ধরানো হয়, এবং পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়।
আরও পড়ুনঃ Lionel Messi: মুম্বইয়ের ভিড় সামলে দিল্লির পথে মেসি, সোমবার মোদীর সঙ্গে বৈঠক!
শেষপর্যায়ে মেসিকে টানেল দিয়ে মাঠ থেকে বের করা হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তখন স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু মেসি মাঠ ছাড়ার পর আর প্রবেশ করেননি। পরে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে মেসির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এই পুরো ঘটনা আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলার ইমেজকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। হিমন্তের অভিযোগ ও গ্রেফতারের দাবি নিয়ে রাজনীতি তুঙ্গে, যা এখন দেশব্যাপী বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।





