লিওনেল মেসি, শনিবার ভোরে সেই নামের সঙ্গেই জড়িয়ে গেল কলকাতার সকাল। বিমানবন্দরে পা রাখার মুহূর্ত থেকেই উল্লাস, স্লোগান আর পতাকার ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে শহর জুড়ে। যেন ফুটবল নয়, আবেগ নিজেই নেমে এসেছে রাস্তায়। বহু বছর পর এমন কোনও তারকার আগমনে আবারও মনে হলো—ফুটবল শুধু খেলা নয়, মানুষের অনুভূতির সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িয়ে।
কলকাতার পরেই অবশ্য বিশ্রামের সুযোগ ছিল না মেসির। শহর বদলেছে, কিন্তু উন্মাদনার রং বদলায়নি। শনিবার সন্ধ্যায় তিনি পৌঁছন হায়দরাবাদে। রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মাঠে নামেন স্বয়ং মেসি। সংক্ষিপ্ত প্রদর্শনী ম্যাচ, ফুটবল ক্লিনিক—সব মিলিয়ে দর্শকদের জন্য ছিল একেবারে কাছ থেকে প্রিয় তারকাকে দেখার সুযোগ। মাঠে কয়েকটি বল ছুড়ে দেওয়া থেকে শুরু করে হাসিমুখে হাত নেড়ে অভিবাদন—সবটাই যেন মুহূর্তে স্মৃতি হয়ে যায় হাজার হাজার ভক্তের মনে।
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তেলঙ্গনার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি। তিনিও মেসির সঙ্গে মাঠে কয়েকটি পাস আদান-প্রদান করেন। পাশাপাশি অনুষ্ঠানে ছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও। সৌজন্য সাক্ষাতের পর এলএম১০-এর হাত থেকে একটি জার্সি উপহার পান তিনি। তবে মাঠের বাইরেও এই সফর ঘিরে অন্যরকম বার্তা দিচ্ছে আয়োজন। উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তের কথায়, প্রায় ১৪ বছর পর মেসির ভারতে আসা ভারতীয় ফুটবলের জন্য ঐতিহাসিক। তাঁর মতে, এত বড় সংখ্যায় স্পনসর আগে কখনও ভারতীয় ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত হয়নি, যা ভবিষ্যতের জন্য বড় ইঙ্গিত।
রবিবার মেসির গন্তব্য মুম্বই। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি রয়েছে দাতব্য ফ্যাশন ইভেন্ট। সেখানে মেসির সঙ্গে থাকবেন লুইস সুয়ারেজ ও রদ্রিগো দে পল। পাশাপাশি সিসিআই-তে রয়েছে প্যাডেল কাপের সূচিও। সম্ভাব্য ভিড় এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি মাথায় রেখে ওয়াংখেড়েতে কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। জলের বোতল, ধাতব সামগ্রী, কয়েন নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। স্ট্যান্ডের চারপাশে বসানো হয়েছে পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, যাতে ভিড় নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
আরও পড়ুনঃ Messi : যুবভারতীর বিশৃঙ্খলার পর হায়দরাবাদে মেসি-জাদু, একই উদ্যোক্তা হলেও কেন দুই শহরের ছবি এত আলাদা?
তিন দিনের ‘গোট ট্যুর ইন্ডিয়া’-র শেষ অধ্যায় লেখা হবে সোমবার দিল্লিতে। সেখানেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে লিওনেল মেসির। পাশাপাশি মিনার্ভা অ্যাকাডেমির যুব দলগুলিকে সংবর্ধনা এবং একটি নাইন-এ-সাইড সেলিব্রিটি ম্যাচও রয়েছে সূচিতে। চার শহর ছুঁয়ে এই সফর শেষ হলেও, মেসির এই ভারত সফর যে বহুদিন মানুষের মনে থেকে যাবে—তা বলাই বাহুল্য।





