ডিজিটাল যুগে জননেতাদের গ্রহণযোগ্যতা আজ আর শুধু সভা-মিছিল বা নির্বাচনী ফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সামাজিক মাধ্যমই হয়ে উঠেছে মতামত প্রকাশ ও জনসংযোগের অন্যতম প্রধান মঞ্চ। কে কী বলছেন, কীভাবে বলছেন, আর মানুষ তাতে কীভাবে সাড়া দিচ্ছেন—সবটাই এখন মুহূর্তে ধরা পড়ে পরিসংখ্যানে। ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই গত এক মাসে এক্স (X) প্ল্যাটফর্মে নজিরবিহীন উপস্থিতি তৈরি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
এক্স-এর নতুন ‘মোস্ট লাইকড’ ফিচার অনুযায়ী, গত ৩০ দিনে ভারতে সবচেয়ে বেশি লাইক পাওয়া শীর্ষ ১০টি পোস্টের মধ্যে ৮টিই এসেছে প্রধানমন্ত্রীর এক্স হ্যান্ডল থেকে। এই তালিকায় অন্য কোনও রাজনৈতিক নেতার পোস্ট জায়গা পায়নি, যা স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল বাড়িয়েছে। সংখ্যার দিক থেকে যেমন এই আধিপত্য চোখে পড়ার মতো, তেমনই প্রশ্ন উঠছে—কোন ধরনের বার্তা মানুষকে এতটা টানছে?
সবচেয়ে বেশি সাড়া ফেলেছে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ভগবদ্গীতার রুশ ভাষার একটি কপি উপহার দেওয়ার মুহূর্ত। সেই ছবিসহ পোস্টটির রিচ ছিল প্রায় ৬৭ লক্ষ, আর লাইক পড়েছে ২ লক্ষ ৩১ হাজারের বেশি। ওই বার্তায় প্রধানমন্ত্রী গীতার সার্বজনীন দর্শনের কথা তুলে ধরেন, যা বিভিন্ন সংস্কৃতি ও দেশের মানুষের কাছেও অনুপ্রেরণার উৎস। পাশাপাশি, পুতিনকে দিল্লিতে স্বাগত জানিয়ে করা আর একটি পোস্টও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়—যার রিচ ছাড়িয়েছে ১ কোটি এবং লাইক হয়েছে ২ লক্ষ ১৪ হাজারেরও বেশি। সেখানে ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের দীর্ঘ ইতিহাস ও পারস্পরিক বিশ্বাসের কথাই উঠে আসে।
শুধু কূটনীতি নয়, ধর্মীয় ও ক্রীড়াক্ষেত্রের ঘটনাও এই তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিয়েছে। অযোধ্যার রাম জন্মভূমি মন্দিরে ধর্মধ্বজারোহণ অনুষ্ঠান সংক্রান্ত পোস্টে প্রায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার লাইক পড়ে। আবার ভারতীয় দৃষ্টিহীন মহিলা ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ জয়ে অভিনন্দন জানানো পোস্টে লাইক ছাড়ায় প্রায় ১ লক্ষ ৪৭ হাজার। এই দুই ক্ষেত্রেই বার্তার আবেগ ও জাতীয় গর্ব পাঠকের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি করেছে।
আরও পড়ুনঃ Bangladesh : বাংলাদেশে সাংবাদিক হওয়াই কি এখন অপরাধ? ঢাকায় ‘প্রথম আলো’-‘ডেলি স্টার’-এ হাম*লা, খুলনা*য় নিহত সাংবাদিক!
এদিকে ডিজিটাল জনপ্রিয়তার বাইরেও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে আরও একটি উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি পেলেন প্রধানমন্ত্রী। তিন দেশের সফরের শেষ পর্বে ওমান সফরে গিয়ে তিনি পেলেন ‘অর্ডার অব ওমান’ (ফার্স্ট ক্লাস) সম্মান। ১৯৭০ সালে প্রবর্তিত এই সম্মান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও বিশ্বশান্তিতে বিশেষ অবদানের জন্য দেওয়া হয়। এই নিয়ে বিশ্বের ২৯টি দেশের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মানে ভূষিত হলেন নরেন্দ্র মোদী। সম্মান গ্রহণ করে তিনি জানান, এটি ভারত ও ওমানের মানুষের পারস্পরিক আস্থা এবং দীর্ঘদিনের সামুদ্রিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের প্রতীক—যা তিনি দেশের মানুষ ও পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে উৎসর্গ করেন।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার